সর্বশেষ সংবাদ

যে কারণে সাহসী দৃশ্যে বলিউডের নবাগত নায়িকারা

(বাঁ থেকে) মানস্বী ম্যামগাই, স্নেহা অরুণ, মান্নারা চোপড়া, প্রিয়াঙ্কা তালুকদার

 মানস্বী ম্যামগাই, স্নেহা অরুণ, মান্নারা চোপড়া, প্রিয়াঙ্কা তালুকদার


বলিউড সিনেমায় এখন অনেক নতুন মুখ দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি এ সকল অভিনেত্রীদের দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন খোলামেলা চরিত্রে। অনেকে আবার চুক্তিবদ্ধ হচ্ছেন নির্মাতাদের ইচ্ছা অনুযায়ী প্রয়োজনে নগ্ন দৃশ্যে অভিনয় করার জন্য। কিন্তু কেন তারা এ সকল সিনেমায় কাজে আগ্রহী হচ্ছেন বা হয়েছেন? এমন প্রশ্নের উত্তর জানিয়েছেন এ নবাগত অভিনেত্রীরা নিজেই। বলিউডের এরকম কয়েকজন নবাগত অভিনেত্রীর বক্তব্য নিয়ে আমাদের আজকের এ রচনা।

মানস্বী ম্যামগাই : আমি যখন আমার প্রথম অ্যাকশন জ্যাকসন সিনেমার জন্য চুক্তিবদ্ধ হলাম, তখনই জানতাম আমাকে কিছু ছোট পোশাক পরতে হবে। কিন্তু আমাকে বলা হয়েছিল শটগুলো নেওয়া হবে শিল্প সম্মতভাবে। আমার এ বিষয়ে দুঃচিন্তা ছিল না কারণ সিনেমার আমার সহঅভিনয় শিল্পী ছিলেন অজয় এবং পরিচালক ছিলেন প্রভুদেবা। যখন বলা হবে সিনেমায় সাহসী দৃশ্য রয়েছে তখন আপনাকে সেট আপ দেখে নিতে হবে। সিনেমাটিতে আমার সাহসী দৃশ্যের কথা আমার পরিবারকে জানিয়েছিলাম। তারা এ বিষয়ে কোনো আপত্তি করেননি। সময় বদলে গেছে। খোলামেলা দৃশ্যে অভিনয়টা এখন কোনো বড় বিষয় নয়। বর্তমানে এ ধরনের অনেক সিনেমা তৈরি হচ্ছে। কিন্তু শটগুলো নেওয়া হচ্ছে শৈল্পিকভাবে। খোলামেলা দৃশ্য নির্ভর কোনো সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হওয়ার বিষয়টি একটু বাড়াবাড়ি। আমি এ ধরনের সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হবো কিনা তা নিশ্চিত নয়। যদি সেক্স কমেডি ঘরানার হয় তবে আমি এটি  করব না। আমি এ ঘরানার সিনেমায় অভ্যস্ত নই।  

স্নেহা অরুণ : একতা কাপুরের থ্রি এক্স সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে আমার অভিষেক হতে যাচ্ছে। অডিশনের সময় আমি ভীষণ অস্বস্ত্বিতে ছিলাম। আমি ফিরে আসতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তারপর ভাবলাম একটু চেষ্টা করি। খুব একটা ভালো শুরু হয়নি। কিন্তু দ্বিতীয়বারে ভালো করতে পেরেছিলাম। আমি সত্যিই অনেক নার্ভাস ছিলাম। আমি মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম কিন্তু শরীরকে তৈরি করতে পারছিলাম না। আমি মঞ্চ অভিনয় শিল্পী কিন্তু খোলামেলা দৃশ্যে কাজ করতে গিয়ে আমার সংকোচবোধ হচ্ছিল। বিশ দিন পর আমাকে জানানো হয় আমি নির্বাচিত হয়েছি। সঙ্গে সঙ্গেই আমি আমার পরিবারকে জানাই এবং সিনেমায় আমার চরিত্র সম্পর্কে তাদের খুলে বলি। তারা আমাকে জানান, যদি আমি মনে করি কাজটি ঠিক হচ্ছে তাহলে তাদের কোনো অসুবিধা নেই। আমি এটিতে অভিনয়ের একটি অংশ হিসেবেই মনে করছি। আমি আমার প্রস্তুতির জন্য সানি লিওনের ভিডিও দেখা শুরু করি। আমি কাজের ব্যাপারে নিজেকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলার চেষ্টা করছি। জানি না পারব কিনা। পরিচালক কেন ঘোষের সঙ্গে দেখা করার পর সব ঠিক হয়ে গেছে। 

আমার বাড়ি পুনেতে হওয়ায় পরিবার থেকে আমি অনেক সাহায্য পেয়েছি। আমার পরিবার আমাকে বলেছে তুমি শুধু অভিনয় করে যাও, বাকি সব আমরা দেখব। মাঝে মধ্যে মনে করি আমরা মানসিকভাবে তৈরি, কিন্তু যখন দৃশ্য শুরু হয় দেখি তা নয়। শুটগুলো খুব গোপনে করা হয়। একতা কাপুর এবং কেন ঘোষ নিশ্চিত করেছেন শুটিংয়ে শুধু কিছু ব্যক্তি ব্যতিত আর কেউ থাকবে না। এবং তাদের বেশির ভাগই আবার মহিলা। আমি আমার সহ-অভিনেতাকে আপন কেউ মনে করি সহ-অভিনেতা নয়। এতে করে ঘনিষ্ঠদৃশ্যগুলো করতে আরো সুবিধা হয়। আমি গত চার বছর যাবৎ সুযোগ খুঁজছিলাম। আমি ২০১১ সাল থেকে অভিনয় শুরু করি। তখন নাচের অনুশীলনে অংশ নিই এবং থিয়েটার করতে শুরু করি। আমি দুই একটা রিয়েলিটি শোয়ে অংশ নিই। হাজার হাজার প্রতিভাধর অভিনেত্রী আছে এবং তাদের চেহারাও সুন্দর কিন্তু তাদের কমই আছে যারা অভিনয় করতে পারে। আমি একটু দোটানায় ছিলাম কিন্তু ভাগ্য আমাকে সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে। আমি যখন সিনেমায় খোলামেলা হওয়ার বিষয়টি শুনেছিলাম তখন একটু হতাশ হয়েছিলাম। মনে করেছিলাম আমাকে নগ্ন হতে হবে। কিন্তু এ বিষয়ে নির্মাতাদের সহযোগিতায় আমার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করি।

মান্নারা চোপড়া : একটি দক্ষিণী সিনেমায় অভিনয়ের পর আমি কয়েকটি অডিশনে অংশ নিই। তারপরই আমার অভিষেক হয় জিদ সিনেমায়। এটি একটি ইরোটিক থ্রিলার সিনেমা।আমি দুইবার অডিশনে অংশ নিই। সঙ্গে আমার হিন্দিটাকেও একটু ঠিক করে নিই। আমাকে এ চরিত্রের জন্য নির্বাচিত করা হয়। পরিবারের সঙ্গে সিনেমাটি দেখা যাবে এমন সত্ত্বেই আমি রাজি হই। যাইহোক আমি কোনো নগ্ন চরিত্রে অভিনয়ের জন্য যুক্তিবদ্ধ হইনি। আমি কোনো নির্দিষ্ট সীমা দেইনি কিন্তু আ মি এমন সিনেমায় অভিনয় করতে চাই যা আমার পরিবারের সঙ্গে দেখতে পারবো।

কায়রা দত্ত

কায়রা দত্ত : ২০১৩ সালে কিংফিশারের ক্যালেন্ডারে অংশ নেওয়ার পর আমি মডেলিং শুরু করি এবং সিনেমার জন্য অডিশন শুরু করি। আমি অনুপম খেরের অভিনয় প্রশিক্ষনে অংশগ্রহণ করেছি। একজন মডেল হিসেবে আমি আমার শরীর নিয়ে বেশ সন্তুষ্ট। কিন্তু ট্রিপল এক্স সিনেমায় যখন আমাকে নির্বাচিত করা হয় তখন অনেক চিন্তার পরই সিদ্ধান্ত নিই। তিন দফায় অডিশনে অংশ নিই আমি। যখন আমি জানতে পারি আমি নির্বাচিত হয়েছি, তখন প্রথম আমার পরিবারকে ফোন করি। আমার পরিবার আমাদের সিদ্ধান্তকে খুব গুরুত্ব দেয়। আমি তাদের ট্রিপল এক্সের বিষয়ে সব জানিয়েছি। তারা অনেক খুশি করাণ আমার প্রথম সিনেমা বালাজি ফিল্মসের সঙ্গে। আর নগ্নতা প্রসঙ্গে বলতে হয়, আমি যেহেতু এটিতে কাজ করছি আমি জানি কি করছি। এ সিনেমার ক্যামেরার দ্বায়িত্বে থাকবেন একজন নারী। অতএব একজন নারীর সামনে কাজ করতে আমার কোনো সমস্যা হবে না।   


প্রিয়াঙ্কা তালুকদার : আমি কলকাতা থেকে এসেছি এবং এক বছর আগে মডেলিং শুরু করেছি। ট্রিপল এক্স’র মাধ্যমে আমার বলিউডে অভিষেক হবে। কেন আমাকে সিনেমায় অভিনয়ের জন্য বলে এবং অডিশনে অংশ নিই। যখন তিনি আমাকে সিনেমার চরিত্রের চাহিদা সম্পর্কে বলেন, আমি ভেবে দেখলাম, একজন মডেল হিসেবে বিকিনি পরতে আমার কোনো সমস্যা নেই। তিনি তখন আমাকে বলেন, আমাকে এর চেয়ে বেশি কিছু করতে হবে। তখন আমি তার কাছে কিছু সময় চেয়ে নিই। আমি এরপর আমার পরিবারের সঙ্গে কথা বলি এবং তারা আমাকে সামনে এগিয়ে যেতে বলে। আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না আমি সিনেমাটি করছি। অনেক অভিনয় শিল্পী অভিনয় করতে মুম্বাইয়ে আসে। তারা বছরের পর বছর অপেক্ষা করে। এখন আমি সিনেমায় অভিনয় করছি। আমি কখনো ভাবি নি কোনো খোলামেলা দৃশ্যে অভিনয় করব। আমার বাবা এখনো সিনেমার নাম জানেন না। আমার মা একজন অভিনেত্রী। তিনি আমাকে বলেছেন, সব সময় মাথায় রাখবে তোমার বাবা এবং ভাই যেন সিনেমাটি দেখতে পারে।এটিকে তোমার একটি চরিত্র হিসেবে নাও এবং সাধ্যমতো ভালো কিছু করার চেষ্টা করো। ইন্ডিয়া এখন এ ধরনের সিনেমাকে গ্রহণ করতে শুরু করেছে।

Designed by Copyright © 2014
Powered by Blogger.