সর্বশেষ সংবাদ

রাত জাগা কাজে ঘুমাবেন যখন

রাত জাগা কাজে ঘুমাবেন যখন
রাত জাগা কাজে ঘুমাবেন যখন


১২ মে পালিত হলো আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবস। মহিমান্বিত সেবিকা ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের অনুসারীদের কথা মনে হলো আর এই লেখাটি লিখতে গিয়ে জরুরি বিভাগের রাতজাগা নার্সদের কথা মনে হলো। রাতের পালায় কাজ করেন নার্স, চিকিৎসক ও চিকিৎসা সহকারীরা। আরও আছেন রাতের পালার কর্মী—যেমন সাংবাদিক। শেষ রাতে চোখ দুটো কি ঢুলুঢুলু হয়ে আসে? তাঁরা কাজ করেন আমরা যখন নিদ্রা যাই। তাঁরা হলেন রাতজাগা পাখি। ভাগ্য প্রসন্ন হলে দিনে ঘুমাতে পারেন, যখন আমরা জেগে থাকি।

রাতের পালা বা নাইট শিফটে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের সবার জন্য ব্যাপারটা সহজ নয়। তাঁদের যেহেতু স্বাভাবিক নিদ্রাসূচির বিপরীতে লড়াই করতে হয়, প্রায়ই তাঁদের দুটো সমস্যা হয়—রাতে সজাগ-সচেতন থাকা আর দিনের বেলা ভালো ঘুমানো। সাধারণভাবে রাতের পালার কর্মীদের ভালো ঘুম হয় না তা ঠিক। একদা ক্রনিক ঘুমের ঘাটতির শিকার হন তাঁরা। নিদ্রা বিশেষজ্ঞরা তা-ই বলেন। বদমেজাজ হয়ে যায়, দিনের বেলা ঘুমঘুম ভাব। হৃদ্রোগের ঝুঁকি খুব বেড়ে যায় যেমন হার্ট অ্যাটাক, উচ্চ রক্তচাপ। এবং হৃদ্ছন্দপতন।
স্বল্প মেয়াদে ঘুমে সমস্যা হলে বিপদ ডেকে আনে শিফট কর্মীদের জন্য। ঘুমের ঘাটতি আছে এমন নার্স যদি ভুল মাত্রায় ওষুধ দেন। বিপদ না? কিন্তু দিন ও রাতে আমরা নানা শিফটে নার্স চাই, ডাক্তার চাই, নিরাপত্তাকর্মী চাই, সংবাদকর্মীও চাই। তাই রাতের পালার কর্মীদের জন্য রয়েছে কিছু পরামর্শ।

নিদ্রাসূচিতে লেগে থাকুন
যেদিন ছুটি বা অফ ডে, সেদিনও রাতে জেগে থাকতে হবে এবং দিনে ঘুমাতে হবে। নিদ্রা জাগরণসূচি কখনো ভাঙা চলবে না। একই সময় ঘুমাতে যাবেন, একই সময় জেগে উঠবেন।

নিদ্রাবিধি নিখুঁত থাকা চাই
নিদ্রাসূচি পালনে অবিচল থাকা হলো নিদ্রাবিধি বা স্লিপ হাইজিনের মূল কথা। রাতের পালার কর্মীদের জন্য কথাটি বড় সত্য। যাঁরা শুরু করবেন তাঁদের জন্য বলি—ঘরটি যেন হয় শান্ত, নীরব, অন্ধকার। দিনের বেলা এটি বেশ কঠিন যদিও। আলোরোধক পর্দা চাই, সেলফোন বন্ধ চাই। শিফট শুরুর আগে চা-কফি খেলেও শেষের দিক ক্যাফেয়িন নৈব চ।

আলোকিত হোক
আলো আমাদের মগজে সংকেত পাঠায় সজাগ থাকার জন্য। এ জন্য আমরা উজ্জ্বল দিবালোকে থাকি জাগ্রত আর গাঢ় অন্ধকারে নিদ্রালু বোধ করি। তাই কর্মস্থল যত আলোকিত হবে, সজাগ থাকা যাবে তত বেশি। কাজের সময় আলো যেমন বন্ধু, কিন্তু শিফট শেষে সে হয়ে যায় শত্রু, কারণ ঘুমের জন্য মনে প্রত্যাশা গাঢ় অন্ধকার। সকালে ঘরে ফেরার সময় মগজ পায় মিশ্র সংকেত। সকালে যানবাহনে ফেরার সময় চোখে গাঢ় রোদ চশমা পরা ভালো।

ছোট ঘুম বা ন্যাপ হওয়া চাই কুশলী
রাতের পালার কর্মীদের দিনের একবেলা ঘুমিয়ে রাতের ঘুম পূরণ করার কথা। কিন্তু কখনো তা হয়ে ওঠে না, পারাও যায় না। তাই যথাসময়ে একটু ঘুম, কাজের আগে আগে এক ঘণ্টা তন্দ্রা, পুরো পালায় তাঁকে সজাগ রাখতে সহায়ক বলেন নিদ্রা বিশেষজ্ঞ ওলসন ও ওয়াটারস।

খুব লড়াই করতে হলে চিকিৎসক দর্শন
কাজে খুব ভুলত্রুটি হচ্ছে, গাড়িতেই ঘুমিয়ে পড়তে হচ্ছে, ঘুমিয়ে পড়তে সমস্যা হচ্ছে, উচ্চরক্তচাপ, বিষণ্নতা—এসবের জন্য দুশ্চিন্তা, তাহলে ডাক্তার দেখাতে হবে।
পরিবারে আলোচনা করে মিটিয়ে ফেলুন শিফট কাজের কারণে সমস্যাগুলো।
হয়তো নিদ্রা ও জাগরণসূচি মানিয়ে নেওয়া গেল, কিন্তু রাতের পালার কাজ বেশ চাপ ফেলে সম্পর্কের ওপর, পরিবার-পরিজনের ওপর। বাচ্চাদের খেলা বা কনসার্টে তাদের সঙ্গে যাওয়ার কথা তখন হয়তো ঘুমের সময়, নয়তো শিফটে যাওয়ার সময় হলো। আর ঘুম ঘুম ভাব নিয়ে থাকলে বদমেজাজ থাকে, হয়ে যান অন্য মানুষ। তাই এমন কাজে নিজের ওপর যে প্রভাব পড়ে তা-ই নয়, প্রভাব পড়ে বাচ্চাকাচ্চা ও পরিবারের অন্যদের ওপরও।
তাই এ নিয়ে পরিবারে আলোচনা চাই, পরিকল্পনা চাই। শিফটের ফাঁকে ফাঁকে সময় বের করে একসঙ্গে সময় কাটানোর ফুরসত বের করতে হবে। ঘরোয়া কাজ ও স্বামী-স্ত্রী ভাগাভাগি করে করা উচিত। দৈহিক ও ইমোশনাল অন্তরঙ্গতার জন্যও পরিকল্পনা চাই। রাতের শিফটের কর্মীরা বাচ্চাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সময় কাটানোর সময় বের করবেন, এভাবেই চলবে দিনরাত।

No comments:

Post a Comment

Designed by Copyright © 2014
Powered by Blogger.