সর্বশেষ সংবাদ

দীনের দাওয়াত দেওয়া সুন্নত

দীনের দাওয়াত দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে হলে নিজেকেই আগে শোধরাতে হবে। নিজেকে সৎ কাজের জন্য নিবেদিতপ্রাণ করে গড়ে তুলতে হবে। খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। নিজে সঠিক পথের যাত্রী না হলে অন্যকে লক্ষ্যস্থলে পৌঁছে দেওয়া যায় না। একদিন জনৈক ব্যক্তি ইবনে আব্বাস (রা.)-এর কাছে এসে বললেন, আমি দীনের দাওয়াতি কাজ করতে চাই। ইবনে আব্বাস (রা.) বললেন, তুমি কি এ মর্যাদায় পৌঁছেছ? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আশা তো করি। ইবনে আব্বাস (রা.) বললেন, যদি তুমি মনে কর যে, কোরআন মাজিদের তিনটি আয়াত থেকে তোমার অপমানিত হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই তাহলে অবশ্যই তুমি দীনের দাওয়াতের কাজ করতে পারবে। সে ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন, আয়াত তিনটি কী? ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন- প্রথম আয়াতটি হচ্ছে 'তোমরা কি লোকদের উত্তম কাজের নির্দেশ দিচ্ছ আর নিজেদের কথা সম্পূর্ণ ভুলে যাচ্ছ?' (সুরা বাকারা, ৪৪)। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, তুমি কি এ আয়াতের ওপর ভালোভাবে আমল করছ? তিনি বললেন, না। দ্বিতীয় আয়াতটি হচ্ছে 'তোমরা কেন এমন কথা বল যা নিজেরা কর না?' (সুরা সাফ, ২)। এ আয়াতের ওপর কি তুমি যথাযথ আমল করছ? তিনি বললেন, না করিনি। তৃতীয় আয়াতটি হচ্ছে 'হজরত শুয়াইব (আ.) নিজ জাতির উদ্দেশে বলেছিলেন, আমি যেসব মন্দ কাজ করতে তোমাদের নিষেধ করছি, সেসব কাজ আমি নিজে করব এমন উদ্দেশ্য আমার নেই। বরং এমন কাজ থেকে আমি দূরে থাকব এবং তোমরা আমার কথা ও কাজে কোনোরূপ ব্যতিক্রম দেখতে পাবে না।' (সুরা হুদ, ৮৮)। ইবনে আব্বাস (রা.) জিজ্ঞেস করলেন, এ আয়াতের ওপর কি তুমি আমল করছ? তিনি বললেন, না। আব্বাস (রা.) বললেন, যাও নিজেকে সৎ কাজের আদেশ দাও এবং খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখ। ইসলামে একে অন্যের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ও দীনের দাওয়াত হিসেবে কাজ করে। এতে মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। দুনিয়ার সব জাতির মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময়ের প্রথা প্রচলিত রয়েছে। ইংরেজ বা পশ্চিমা সমাজে একজন অন্যজনের সঙ্গে দেখা হলে গুড মর্নিং, গুড নুন, গুড আফটার নুন, গুড নাইট ইত্যাদি সম্ভাষণ করা হয়। সুপ্রভাত, শুভদুপুর ইত্যাদির মাধ্যমে পশ্চিমা সমাজের লোকেরা একে অন্যকে শুভেচ্ছা জানায়। ভারতীয় উপমহাদেশের হিন্দু সম্প্রদায় একে অন্যের সঙ্গে দেখা হলে নমস্তে বলে অভিবাদন জানায়। মুসলমানদের মধ্যে পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় হয় সালামের মাধ্যমে। আসসালামু আলাইকুম-আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক-এই সম্ভাষণে। সালামের মাধ্যমে দাওয়াতের প্রথম পর্ব শুরু হয়। ইসলামে সালাম আদান-প্রদানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় বিধান অনুসারে সালাম দেওয়া সুন্নতে মুয়াক্কাদা এবং সালামের জবাব দেওয়া ওয়াজিব। সালাম বিনিময়ের মাধ্যমে এক মুমিনের সঙ্গে আরেক মুমিনের আত্দিক সম্পর্ক জোরদার হয়। রসুলুল্লাহ (সা.) মুমিনদের সালাম আদান-প্রদানে উৎসাহ প্রদান করেছেন। হজরত আবু হুরাইয়া (রা.) বর্ণিত, রসুলুল্লাহু (সা.) বলেন, যে পর্যন্ত না ইমানের অধিকারী হবে, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। আর যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা পরস্পর পরস্পরকে ভালোবাসবে না ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা পূর্ণ মুমিন হতে পারবে না। আমি কি তোমাদের এমন কাজ সম্পর্কে অভিহিত করব না, যা আমল করলে তোমরা ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে? তোমরা নিজেদের মধ্যে সালামের আদান-প্রদানকে বহুলভাবে প্রসার ঘটাও। মুসলিম। সালামের আদান-প্রদানের মাধ্যমে মুসলমানরা একে অন্যের শান্তি কামনা করে। অন্য মানুষের জন্য মুমিনদের এ শুভ কামনার কোনো তুলনাই নেই। এ শুভ কামনা পারিবারিক, সামাজিক এমনকি রাষ্ট্রীয় জীবনে শান্তির পরিবেশ সৃষ্টিতে অবদান রাখে। একজন মানুষের সঙ্গে অন্য মানুষের সৌহার্দ্যের পরিবেশ নিশ্চিত করে। রসুলুল্লাহু (সা.) ছোট-বড় সবাইকে সালাম দিতেন এবং মুমিনদের এ ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সালামের আদান-প্রদান এবং এ অভ্যাসকে আত্দস্থ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
Designed by Copyright © 2014
Powered by Blogger.