সর্বশেষ সংবাদ

ঈদের চলচ্চিত্র প্রদর্শনের শর্ত দেবে জাজ


জাজ ঈদের আগে ৫টি সিনেমা রিলিজ করবে, সব বিগ বাজেট কমার্শিয়াল সিনেমা, আর এই সিনেমাগুলো হল মালিকদের চালাতে হলে জাজের সিনেমার ঈদ বুকিং করতে হবে। আর হল চালু রাখতে হলে হল মালিককে অবশ্যই জাজের সাথে ঈদ বুকিং করতে হবে। নতুবা জাজ ওই সব হলকে সিনেমা দিবে না।’

এমন শর্তের কথা লেখা হয়েছে জাজ মাল্টিমিডিয়ার ফেসবুক পাতায়। শুক্রবার রাতে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে ২০১৬ সালের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। দীর্ঘ ওই স্ট্যাটাসে ঢালিউড তারকারা কে কোনো অবস্থানে থাকবে সে মূল্যায়নও করা হয়।
শাকিব খান সম্পর্কে লেখা হয়, ‘শাকিব খানের জন্য এই বছর খুব কঠিন হয়ে পড়বে। গত বছর শাকিবের ঈদে সিনেমা শুধু ব্যবসা করতে পেরেছে। ঈদ ছাড়া বাকি দুইটা সিনেমা খুবই বাজে গেছে। শাকিব তার সিনেমার শুটিং বিভিন্নভাবে দেরি করিয়ে ঈদে আনার চেষ্টা করবে যাতে ব্যবসা করে। কিন্তু এটা সফল হবে না।’
এবার দেখা যাক জাজের পরিকল্পনায় আর কী কী আছে—
‘চলে গেল আরও একটা বছর। আজ থেকে শুরু হলো নতুন একটা বছর। সবাই ২০১৫ কেমন গেল সেটা লিখছে। আপনারা জানেন, তাই এ নিয়ে আর নতুন করে কিছু লিখছি না।
২০১৬ কেমন যাবে, তাই লিখি। একজন ব্যবসায়ীকে অবশ্যই সঠিক ভবিষ্যৎ দূরদৃষ্টি থাকতে হবে, যদি না থাকে তাহলে ভাল ব্যবসায়ী হতে পারবে না। তাই জাজ যেহেতু ব্যবসা করে তাকে অবশ্যই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করতে হয় এবং ভবিষ্যৎ দেখতে হয়। সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ বাণী করছি ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে—
১. জাজ ৫ বছরের পরিকল্পনা নিয়ে এসেছে। ২০১৫ সালে ২০ কোটি টাকা সিনেমা বানাতে লগ্নি করেছে। আর ২০১৬ সালে আরও ২০ কোটি টাকা লগ্নি করে বাকি সব হল ডিজিটাল করে ফেলবে।
২. আশা রাখছি ২০১৬ রোজার ঈদের আগেই আরও ১৫০ হল ডিজিটাল করা সম্ভব হবে। যদি করতে পারি তাহলে আগামী রোজার ঈদ থেকে পাইরেসি বন্ধ হয়ে যাবে। আপনারা জানেন জাজের সার্ভারে সিনেমা চালালে কোন পাইরেসি হয় না।
৩. সিনেমা বানানোর সংখ্যা কমে যাবে।
৪. যারা পেশাদারি বা নিয়মিত বা পুরাতন প্রযোজক তারা এই বছর কোন সিনেমা বানাবে না। সিনেমায় লগ্নি হবে ৩ ধরনের— ক. গ্লামার জগতের জন্য, খ. অনেক টাকা আছে, তাই শখে একটি সিনেমা বানাবে ও
গ. বিকল্প ধারা বা পুরস্কারের জন্য সিনেমা।
উপরের ৩টি কারণ এ সিনেমার জন্য খুব খারাপ। এতে সিনেমা হল বা শিল্প বাঁচবে না।
৫. জাজ ২০১৬ সালে ১২টি সিনেমা তৈরি করবে।
৬. এই বছর মৌসুমী প্রযোজক বন্ধ হয়ে যাবে। অর্থাৎ দুই-একজন প্রযোজক আছে যারা বছরে একটা সিনেমা বানায় শুধু ঈদের জন্য অথচ যারা সারা বছর ৪-৫টি সিনেমা বানায় তারা ঈদে ভাল করতে পারে না। এটা ঠিক না। যারা বারো মাস সিনেমা বানাবে লাভ-লসের কথা চিন্তা না করে, তাদেরই ঈদে সিনেমা রিলিজের মুল দাবিদার হওয়া উচিত।
৭. জাজ ঈদের আগে ৫টি সিনেমা রিলিজ করবে, সব বিগ বাজেট কমার্শিয়াল সিনেমা, আর এই সিনেমাগুলো হল মালিকদের চালাতে হলে, জাজের সিনেমার ঈদ বুকিং করতে হবে। আর হল চালু রাখতে হলে, হল মালিককে অবশ্যই জাজের সাথে ঈদ বুকিং করতে হবে। নতুবা জাজ ওই সব হলকে সিনেমা দিবে না।
৮. জাজ এই রোজার ঈদে ৩টি সিনেমা, কোরবানি ঈদে ২টি সিনেমা রিলিজ দিবে। তাই, দুই ঈদে অন্য কোনো প্রযোজক হল পাবে না বা সিনেমা রিলিজ দিতে পারবে না।
৯. ২০১৫ সালের মতো ২০১৬ সালেও অনন্ত জলিলের কোনো সিনেমা রিলিজ হবে না। এতে আমরা অনন্ত জলিলের কোনো দোষ দিবো না। একজন মানুষ আর কত লস করবে। তবে, তিনি বিভিন্নভাবে আলোচনায় থাকবেন।
১০. শাকিব খানের জন্য এই বছর খুব কঠিন হয়ে পড়বে। গত বছর শাকিবের ঈদে সিনেমা শুধু ব্যবসা করতে পেরেছে। ঈদ ছাড়া বাকি দুইটা সিনেমা খুবই বাজে গেছে। শাকিব তার সিনেমার শুটিং বিভিন্নভাবে দেরি করিয়ে ঈদে আনার চেষ্টা করবে যাতে ব্যবসা করে। কিন্তু এটা সফল হবে না। কারণ, জাজ এই জানুয়ারি থেকে ঈদের সিনেমার বুকিং করবে ও হল থেকে ঈদের সিনেমার টাকা নেওয়া শুরু করবে। জাজ ছাড়া অন্য কেউ এই বছর ঈদে কোনো সিনেমা রিলিজ করতে পারবে না। তাই শাকিব'কে তার কৌশল পরিবর্তন করতে হবে। কিন্তু এ বছরও শাকিব এক নাম্বার হিরো থাকবে নিশ্চিন্তে।
১১. বাপ্পীর জন্য বছরটা খুব খারাপ যাবে। এই বছর বাপ্পীর একাধিক সিনেমা মুক্তি পাবে। এর মধ্যে ১টি সিনেমা ব্যবসা করতে পারে। বাকি সব ব্যবসা খারাপ করবে ও কাকরাইলে বাপ্পীর চাহিদা আরও কমে যাবে। ৬ মাস আগে বাপ্পীর সিনেমা ৬০ লক্ষ টাকা টেবিল কালেকশন করতো, এখন করে ২০ লক্ষ টাকা। এই বছরের শেষে তা কমে ১০ লক্ষ টাকা হয়ে যাবে। এখন পর্যন্ত বাপ্পীর অবস্থান আরিফিন শুভর উপরে আছে, কাকরাইল ও হল মালিকের কাছে। কারণ শুভর ঘরে অগ্নি, ছুঁয়ে দিলে মন (সারাদেশব্যাপী হিট না) এই দুটি ছাড়া কোন হিট সিনেমা নাই, বাপ্পীর অনেক আছে। কিন্তু বছরের মাঝামাঝি আরিফিন শুভ বাপ্পীকে ছাড়িয়ে যাবে। তা ছাড়া এই বছরও বাপ্পীর কোনো সিনেমা এই ঈদে রিলিজ হবে না। আর ঈদে কোন নায়ক বা নায়িকার সিনেমা রিলিজ না হলে তার মার্কেট ভ্যালু পড়ে যায়। বাপ্পীর ক্ষেত্রে তাই হবে। তাই বাপ্পীর এখনই উচিত বেছে সিনেমা করা, ভাল সিনেমা ভাল পরিচালক না পেলে বসে থাকা। বছরে একটা হিট সিনেমা দিতেই হবে তাকে।
১২. আরিফিন শুভ : তার জন্য বছরটা ভাল যাবে। অন্তত দুই নাম্বার আসনে চলে আসবে। তবে এই বছরও শাকিবের কাছাকাছি যেতে পারবে না। তার সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, তিনি মিডিয়া পরিচালকের (টেলিভিশন থেকে আসা) ওপর খুব বেশি নির্ভর করতে চান। কিন্তু ইতিহাস বলে, কোনো মিডিয়ার পরিচালক এখন পর্যন্ত হিট সিনেমা দিতে পারে নাই। তাই তাকে গল্প ও পরিচালক বাছতে খুব সাবধানী হতে হবে। আর তাকে অবস্থার উন্নতি করতে হলে, অবশ্যই ঈদে কোন ভাল ও খুব বড় সিনেমা আনতে হবে। কিন্তু সেটা বোধ হয় তার পক্ষে সম্ভব না।
১৩. পুরাতন অন্য কোনো নায়ক উঠে আসতে পারবে না। ভালো সিনেমা হলেও কাকরাইল, বুকিং সিন্ডিকেট তাদের ধরাশায়ী করে ফেলবে।
১৪. এই বছর নতুন একজন বাংলাদেশী নায়ক উঠে আসবে ও খুব ভালো করবে।
১৫. এই বছর জিতের একটি সিনেমা মুক্তি পাবে।
১৬. অঙ্কুশের কোনো সিনেমা এই বছর মুক্তি পাবে না।
১৭. ওময়ের একাধিক সিনেমা মুক্তি পাবে ও ভাল একটি অবস্থান করবে।
১৮. মাহির জন্য বছরটি একটি অগ্নি পরীক্ষার বছর। একজন নায়ক বা নায়িকা কোন হাউস বা কোন পরিচালকের অধীনে কাজ করছে সেটা দর্শক বা ডিস্ট্রিবিউশনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো তার সিনেমা হিট করে কি-না। তাই তাকে এই বছর খুব হিসাব করে চলতে হবে। গত তিন বছর মাহিকে কারো সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়নি। একক রাজত্ব করতে পেরেছে। এখন তার পিছনে আছে ফারিয়া। এখন তার পারিশ্রমিক ১০ লক্ষ টাকা। এই বছর যদি কোন বড় হিট না দিতে পারে তবে বছর শেষে তাকে ৫ লক্ষ টাকায় নেমে আসতে হবে। আর তাকে যেকোনো ভাবেই হোক, ঈদে সিনেমা নিয়ে আসতে হবে, নতুবা আলোচনার বাহিরে চলে যাবে।
১৯. অপু বিশ্বাস এ বছরও শাকিবময় থাকবে। শাকিব খান তাকে ছাড়া ২-৩টি সিনেমা করবে ও ভাল ব্যবসা করবে। তাই অপু বিশ্বাসের জন্য বছরটা খারাপ যাবে।
২০. পরিমনি যে সিনেমা আসে তাই সাইন করে। তাই তার কোনো সিনেমাই এ বছর ব্যবসা করবে না। যেহেতু মাহি ছাড়া কোন দ্বিতীয় ভালো নায়িকা পাচ্ছিল না, তাই সবাই পরী মনি কে নিচ্ছে। কিন্তু বছর শেষে পরী মনির চাহিদা কমে আসবে, কারণ দুইটা— (ক) সিনেমার সংখ্যা কমে যাবে (খ) নতুন নায়িকা দাঁড়িয়ে যাবে।
২১. ফারিয়া খুব কৌশলে এগুচ্ছে এবং সে জানে কিভাবে লাইমলাইটে থাকতে হবে। এই বছর খুব ভাল অবস্থান এ চলে আসবে। কিন্তু অন্য প্রযোজকদের কাছে তিনি খুব expensive. কারণ তিনি ১০ লক্ষর কমে কোন সিনেমা করবে না। শুধু কম টাকার কারণে অনেক ভালো সিনেমা ফিরিয়ে দিয়েছে।
২২. বছরের সেরা হিট সিনেমা দিবে জলি। তার প্রথম ২টি সিনেমা খুব বড় হিট হবে বলে আমাদের বিশ্বাস। খুব বেশি ভাগ্যবতী। মাহিকে মাহি হতে পোড়ামন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। পোড়ামন কারো কারো জীবনে একবারই আসে হয়তো। কিন্তু হয়তো বা জলির জীবনের প্রথম সিনেমাটি পোড়ামন হতে যাচ্ছে। মাত্র দুটি সিনেমা দিয়েই জলি দর্শকের মনে স্থান করে নিবে। অঙ্গার ও নিয়তির গল্প ও গানগুলো এমন যে সিনেমা দুটি হিট হবেই। এই সিনেমা মুল আকর্ষণ হচ্ছে গল্প, গান ও নির্মাণশৈলী। এই সব তার ভাগ্য তাকে এনে দিয়েছে। কিন্তু তাকে নিজেকে আরও ডেভেলপ করতে হবে, নতুবা ২টি সিনেমা করে হারিয়ে যাবে।
২৩. এই বছরও সিনেমার ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করবে কাকরাইলের বুকিং এজেন্ট। জাজ ছাড়া সব প্রযোজকরা বুকিং এজেন্টের কাছে জিম্মি হয়ে থাকবে। গতবছর ব্ল্যাক সিনেমার প্রযোজক জনাব লিপু সাহেবের মতো অনেক পুরাতন প্রযোজক ও কাকরাইলের সিন্ডিকেটে পড়ে নাকানিচুবানি খেয়েছে। আর নতুনদের তো কথাই নেই। নতুন প্রযোজক এসে শুধু পুঁজি হারিয়ে চলে যাবে।
২৪. মোটকথা ২০১৬ চলচ্চিত্রের জন্য কোনো সুখের বছর নয়।
২৫. দরকার জাজের মত কর্পোরেট ব্যবসায়ী যারা ৩ বছরের পরিকল্পনা করে সিনেমাতে লগ্নি করবে।
২৬. এই বছরও চলচ্চিত্রের জন্য সরকার থেকে কোনো সুবিধা পাওয়া যাবে না, যদি না প্রযোজক সমিতি সঠিক নেতৃত্বের হাতে পড়ে। বর্তমানে যারা আছে, তারা গত ৫ বছর কোন সিনেমা বানায় না, কিন্তু যারা বানাচ্ছে তাদের কিভাবে ক্ষতি করা যায়, তার জন্য তাদের সারাদিন চিন্তা-ভাবনা। কিভাবে ক্ষমতা ধরে রাখবে তার চিন্তা-ভাবনা। দরকার নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধির হাতে দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তর। তাহলে যদি সিনেমার ভাগ্যের কিছু পরিবর্তন হয়।
Designed by Copyright © 2014
Powered by Blogger.