সর্বশেষ সংবাদ

মানবতার দিকে তাকিয়ে ‘লোমশ শিশু’ বীথি

টাঙ্গাইলের বীথি মাত্র ১১ বছরের শিশু। কিন্তু তাকে দেখে সেটা বোঝার উপায় নেই। মুখমণ্ডলসহ সারা শরীরে অস্বাভাবিক পরিমাণ লোম নিয়েই জন্ম হয়েছে তার। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার স্তনের আকারও অস্বাভাবিক রকম বড় হয়েছে। যার ফলে বীথি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারে না। 

মানবতার দিকে তাকিয়ে ‘লোমশ শিশু’ বীথি 
ভাগ্যের বিরুদ্ধে লড়তে মানবতার দিকে তাকিয়ে আছে হতদরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া বীথি। দীর্ঘদিন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা করে কোনো কাজ না হওয়ায় ১২দিন আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি করা হয়েছে বীথিকে। টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলার জয়ভোগ গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে বীথি আক্তার। সে জয়ভোগ পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। বীথির বাবা জানান, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার শরীরের লোমও বড় হয়েছে। তবে এ কারণে তার তেমন শারীরিক সমস্যা হয়নি। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যে বীথির স্তনের আকার অস্বাভাবিক বেড়ে যেতে থাকে। সেই সঙ্গে প্রচণ্ড জ্বালাপোড়া হতে থাকে। এখন তা নেমে গেছে পেটের নিচ পর্যন্ত। স্তনের ভারে সোজা হয়ে হাঁটতে পারে না। প্রচণ্ড ব্যথার যন্ত্রণায় চিৎকার করে সব সময় কান্নাকাটি করতে হয়। বীথির চিকিৎসা চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ের হরমোন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. ফরিদ উদ্দিনের অধীনে। ডা. ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘এ সম্পর্কে আমরা এখনও নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। আশা করি, আগামী শনিবার এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাবে। তখন গণমাধ্যমকে জানাব।’
মানবতার দিকে তাকিয়ে ‘লোমশ শিশু’ বীথি
এর আগে, সাত বছর বয়সে বীথির সবগুলো দাঁত পড়ে যায়। এখনো দাঁত গজায়নি। তার বাবা আব্দুর রাজ্জাক এলাকায় ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালান। দৈনিক ৩০০ টাকা জমা দিয়ে মোটরসাইকেল ভাড়া নিয়ে যাত্রী বহন করেন তিনি। দুই ছেলে, এক মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে অভাবের সংসার তার। এদিকে বিএসএমএমই’র হরমোন বিভাগের অধ্যাপক ডা. আবুল হাসনাত বলেন, বীথিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। তার চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা দরকার। আমরা তার স্তনের সমস্যা দূর করতে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পরে লোমের সমস্যার চিকিৎসা করা হবে। এ সমস্যা যেতে অনেক সময় লাগবে। এটা দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা। সমাজের বিত্তবানদের বীথির চিকিৎসার সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসার আবেদন জানিয়ে বাবা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘ডাক্তাররা বলছে, বিথির চিকিৎসার জন্যে ম্যালা টাকা লাগবো। এত টাকা কই পামু!’ মাও তার একই আকুতি জানান। এজন্য একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। বিথির বাবা আব্দুর রাজ্জাকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হচ্ছে- MD. A. RAZZAK, হিসাব নম্বর : ০৯৪৭১০১২০৭৩৯০, পূবালী ব্যাংক লিমিটেড, শাহবাগ এভিনিউ, মডেল থানা। এছাড়া বিকাশ অ্যাকাউন্ট নম্বর হচ্ছে- ০১৭২০-৩৬৬৭৮৩।
Designed by Copyright © 2014
Powered by Blogger.