সর্বশেষ সংবাদ

সঙ্গী-সঙ্গিনী অন্যের সঙ্গে সেক্স চ্যাটিং এ জড়িত, করণীয় কি

সমস্যা সত্যিই ঘোলাটে হয়ে ওঠে যখন সঙ্গী বা সঙ্গিনী অন্য কাউকে সেক্সটিং করেন। যখন মনে হচ্ছে সম্পর্ক মসৃণ পথে এগোচ্ছে, তখন এ ধরনের ঘটনায় দিশেহারা হয়ে পড়াটা স্বাভাবিক। অসংখ্য মানুষ বিশেষজ্ঞদের কাছে এ সমস্যার সমাধান চান। এমন ঘটনা ঘটলে সমস্যার কি ইতি টানা উচিত?

 সঙ্গী-সঙ্গিনী অন্যের সঙ্গে সেক্স চ্যাটিং এ জড়িত, করণীয় কি
 অনেকে দাবি করেন, সেক্সটিং আসলে মজা উপভোগের একটা মাধ্যমমাত্র। আর কিছু নয়। এর অর্থ এই নয় যে কারো সঙ্গী অন্যের প্রতি যৌন আকর্ষণ বোধ করছেন। কাজেই এতে ক্ষতি কোথায়? কিন্তু বিষয়টা অপরের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে না।

'দ্য ওয়ে উই আর নাউ ২০১৫ স্টাডি'তে বলা হয়, স্কটল্যান্ডের দম্পতি ও প্রেমিক জুটিদের ওপর গবেষণায় দেখা গেছে, ১৬-৩৪ বছর বয়সীদের অর্ধেকের বেশি মনে করেন, নিজেদের মধ্যে সেক্সি মেসেজ ও ছবি আদান-প্রদান সম্পর্ককে স্বাস্থ্যকর করে তোলে।

আবার এতে ঝুঁকিও আছে বলে মনে করে কানাডার এক গবেষণা। তাতে বলা হয়, যে জুটিদের একজন বা উভয়ই সেক্সটিংয়ে জড়িত, তাদের ৭৫ শতাংশের সম্পর্ক অবনতির দিকে গেছে। আর ১২ শতাংশ প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

তাহলে সঙ্গী বা সঙ্গিনীকে অন্যের সঙ্গে সেক্সটিং করতে দেখলে করণীয় কি? প্রথমেই নিশ্চিত হতে হবে, ঘটনা আসলেই ঘটছে। তাদের দোষ দেওয়ার মাধ্যমে নিজের খারাপ লাগা প্রকাশ করা যায় মাত্র। এ নিয়ে আসলে বিস্তারিত আলোচনা করতে হবে।

প্রথমেই ঘটনার প্রমাণ পেতে হবে। যিনি সেক্সটিং করছেন তার বিষয়টি প্রতারণা নাকি তেমন কিছু না, তা নিশ্চিত হতে হবে। নিজের মনোভাবও বুঝতে হবে। আপনার রাগ হচ্ছে? নাকি হতাশ হয়ে পড়েছেন? এমন হতে পারে আপনার সঙ্গী বা সঙ্গিনী সম্প্রতি নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে হতাশায় ভুগছেন। আর এ থেকে ঘটনা ঘটতে পারে।

সম্পর্ক বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা মন করেন, যিনি প্রতারিত হয়েছেন বলে মনে করেন, তার মধ্যেও সেক্সটিংয়ের প্রবণতা দেখা দিতে পারে। অধিকাংশ বিশেষজ্ঞের মতে, এ ক্ষেত্রে আলোচনার বিকল্প নেই। এমনভাবে কথা বলতে হবে যেন অপরজন বিস্তারিত বলেন। পার্টনারকে বলতে হবে তিনি যেন সততার সঙ্গে নিজের সমস্যা খুলে বলেন। জানতে হবে, সেক্সটিং কত দিন ধরে চলছে? অতীতেও এমনটা করা হতো কিনা?

প্রতিদিনের জীবনের একঘেয়েমি থেকে বাঁচতে অনেকেই সেক্সটিংয়ের আশ্রয় নেন। কিন্তু এটা এমন এক আকর্ষণ যা ধ্বংস ডেকে আনে। কারো কাছে আকাঙ্ক্ষিত বোধ করতে হলে বা কারো স্বপ্নের মানুষ অনুভূতি পেতে এ কাজটি করে থাকেন অনেকে। কোন ধরনের অভাববোধ থেকে এমনটা করা হচ্ছে তা জানাটা জরুরি।

কাজেই পার্টনারকে এমন করতে দেখলে যতই হতাশ ও ক্ষুব্ধ হোন না কেন, খোলামেলা আলোচনার কাজটা সেরে ফেলতে হবে। এতেই বোঝা যাবে নিজেদের সম্পর্ক কোন পর্যায়ে রয়েছে। খুব সহজেই ঝামেলা দূর করে উত্তরণ সম্ভব। আবার বেগতিক হলে হয়তো ইতি টানতে হবে।

সাধারণ সঙ্গী-সঙ্গিনীর অভাববোধ থেকেই এমনটা হয়। কাজেই তাকে আরো বেশি ভালোবাসা দিয়ে বা তার খেয়াল রেখে পরিস্থিতি আবারো আগের মতো করে ফেলা যায়। যদি সমস্যা  জটিল মনে হয়, তবে সম্পর্ক বিষয়ক কোনো বিশেষজ্ঞ ইতিবাচক সমাধান দিতে পারেন।
Designed by Copyright © 2014
Powered by Blogger.