সর্বশেষ সংবাদ

গরমে ঘরে বাইরে নারী

এই গরমে ঘরে বাইরে চারদিকেই জীবন অতিষ্ঠ। তাই সুস্থ ও সুন্দর জীবন যাপন করতে আরামদায়ক পোশাকের বিকল্প নেই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাঙালি নারীর পোশাকেও এসেছে পরিবর্তন। আগে মা খালারা শুধু শাড়ি পরেই জীবন পার করে দিতো। 

 গরমে ঘরে বাইরে নারী
এখন সেই দিন নেই। চলনে-বলনে আমাদের নারীরা এখন অনেক আধুনিক। তাই তার প্রভাব পড়েছে ফ্যাশনশিল্পেও। মানুষের চাহিদা ও সুবিধার কারণেই দেশে ওয়েস্টার্ন পোশাক তার জায়গা করে নিয়েছে।

ওয়েস্টার্নের জয়জয়কার এখন চারিদিকে। এই গরমে তাই মেয়েরা চাইলে টি-শার্ট, টপস, ফতুয়া, ম্যাক্সি টাইপ পোশাক পরে স্বচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারেন। যারা আগ্রহী তাদের জন্যই রইলো কিছূ টিপস।

টি-শার্ট: এই গরমে টি-শার্টের চেয়ে আরামদায়ক পোশাক বুঝিবা আর নেই।  তাই চাইলেই টি-শার্ট পরে স্বচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারেন। দেশে এখন অনেক নামীদামী ব্র্যান্ডের দোকানগুলোতেই টি-শার্ট পাওয়া যায়। যেগুলোতে বিভিন্ন ডিজাইন পোস্টার প্রিন্ট করা থাকে। যা দেখতেও ভালো লাগে।
গরমে ঘরে বাইরে নারী
আরামে ঘুরতে ফিরতে ক্যাজুয়াল পোশাক হিসেবে টি-শার্টের জুড়ি মেলা ভার। আর এই পোশাক যে কোনো বয়সেই পরা যায় অনায়াসে।

গরমে ঘরে বাইরে নারী 
কুর্তী: বাজারে সুতি কাপড়ের কুর্তি এখন সব হাউজগুলোতেই পাওয়া যায়। এগুলেঅ একদিকে যেমন দেশিয় ঐতিহ্য প্রকাশ করে তেমনি অনেক ফ্যাশনেবলও।
গরমে ঘরে বাইরে নারী
সুতি কাপড়ের এসব কুর্তি বিভিন্ন রঙ ও ডিজাইনের হয়। চাইলে যে কেউ কুর্তি পরে সবার নজর কারতে পারেন সহজেই।

টপস: সালোয়ার কামিজের পাশাপাশি আরও অনেক রকমের পোশাক পরতে শুরু করল মেয়েরা কিছুদিন আগেই। কিন্তু কর্ম ব্যস্ততাই বলি আর বিশ্বায়নের জোয়ারই বলি দিনে দিনে বাঙালি মেয়েদের পছন্দের পোশাক হিসেবে পরিনত হয়েছে টপস।
গরমে ঘরে বাইরে নারী
প্রাচ্য পাশ্চাত্যের  মিশেলে এসব টপসের লেন্থ কখনও খাটো বা কখনও হয় লম্বা। আর বডিফিটিং এবং শর্ট স্লিভের।

ফতুয়া: টিএন এজ ও কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলে মেয়েরাই ফতুয়া বেশি পরেন। প্রতিদিন বিভিন্ন কাজে ঘর থেকে বের হতে প্রয়োজন আরামদায়ক পোশাক।

 গরমে ঘরে বাইরে নারী
এজন্য অনেক মেয়েই বেছে নিচ্ছেন ফতুয়া। হালকা কাজ, আরামদায়ক কাপড় আর দামও হাতের নাগালে থাকার কারণে ফ্যাশন সচেতন মেয়েদের দৈনন্দিন পোশাকের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে এই পোশাক।
 গরমে ঘরে বাইরে নারী
বর্তমান চাহিদার বিষয় মাথায় রেখে দেশীয় ফ্যাশন ঘরগুলো তাদের সংগ্রহে রেখেছে বিভিন্ন রং ও ধরনের ফতুয়া। পাশাপাশি কাটছাঁটেও এসেছে ভিন্নতা। তাই খুব সহজেই ফতুয়া পরে দৈনন্দিন জীবন অনেক আরামদায়ক করে তুলতে পারেন।

স্লিভলেস কামিজ: অভিজাত শ্রেণির মধ্যে স্লিভলেস পার্টি ড্রেসের ব্যবহার কম নয়। একসময় গরমে স্বস্তির জন্য ব্যবহৃত হলেও হাল ফ্যাশনে অনেকটাই জায়গা করে নিয়েছ স্লিভলেস কামিজ। ফ্যাশনসচেতন অনেকেই এই সময়ে স্বস্তি আর স্টাইল বিবেচনায় এ ধরনের পোশাককেই বেছে নেন। স্লিভলেস অ্যালাইন টিউনিক একসময় আন্ডার-গার্মেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হলেও ধীরে-ধীরে এটি স্লিভলেস কামিজে রূপান্তরিত হয়ে স্বতন্ত্র একটি পোশাকে পরিণত হয়েছে। ফলে শিশু থেকে তরুণী, এমনকি মধ্যবয়সী নারীরও আজকাল পরিধেয় হয়ে উঠেছে স্লিভলেস কামিজ। তবে এ ক্ষেত্রে তরুণীরাই নিজেদের স্টাইলিশ লুকের জন্য স্লিভলেস সালোয়ার-কামিজ বেশি ব্যবহার করেন।

ম্যাক্সি ড্রেস: দিনের বেলায় হালকা রং এবং রাতে গাঢ় রঙের ম্যাক্সি ড্রেস বা লং ড্রেস পরা যেতে পারে। বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজে নানা প্যাটার্নের ম্যাক্সি ড্রেস রয়েছে। টাইডাই, শিবোরি, প্যাচওয়ার্ক ও মার্বেল ডাই করা হয়েছে এতে। এই ধরনের পোশাকের প্যাটার্নের জন্য লিনেন, জর্জেট ও নেটের কাপড় সবচেয়ে উপযোগী। কয়েক ধরনের কাপড় একসঙ্গে ব্যবহার করেও নকশায় বৈচিত্র্য আনা হচ্ছে এখন। রাতের দাওয়াতে পরার জন্য হাউজগুলো কিছু লং ড্রেস নকশা করেছেন, যার হাতে ও গলায় থাকছে হালকা কাজ। পোশাকের গলার কাটেও থাকছে বৈচিত্র্য। প্রায় সব মার্কেটেই ম্যাক্সি ড্রেস পাওয়া যায়।

স্লিভলেস ব্লাউজ: অনুষ্ঠানে পরার জন্য শাড়ির সঙ্গে অনেকেই এখন বেছে নিচ্ছেন স্লিভলেস ব্লাউজ। শাড়ির সঙ্গে মানানসই ভিন্ন রংয়ের স্লিভলেস ব্লাউজ দেখতে দারুণ ফ্যাশনেবল।

ব্লাউজের কাটিং যাই হোক না কেন হাতাটা স্লিভলেস হওয়াই ভালো। যা গরমে আরামদায়ক, আবার ফ্যাশনেবলও।

কোথায় পাবেন: প্রায় সব ফ্যাশন হাউসে নানা ডিজাইনের নারীদের স্লিভলেস পোশাক পাওয়া যায়। ওয়েস্টার্ন আউটফিটের হাউস যেমন ক্যাটস আই, এক্সটাসি, ইয়েলো, লা রিভে বিভিন্ন কাটিংয়ের স্লিভলেস পোশাক পাওয়া যায়। দেশীয় ফ্যাশন হাউস আড়ং, নগরদোলা, অঞ্জন’স, জেন্টল পার্ক’য়ে খুঁজে পাবেন আপনার পছন্দের স্লিভলেস পোশাকটি।

এ ছাড়া বসুন্ধরা শপিং মল, যমুনা ফিউচার পার্ক, মৌচাক মার্কেট, চাঁদনিচক, গাউছিয়া ও নিউমার্কেটে পাওয়া যাবে স্লিভলেসস পোশাক। চাইলে গজ কাপড় কিনে বানিয়ে নিতে পারেন মনের মতো স্লিভলেস পোশাকটি।
Designed by Copyright © 2014
Powered by Blogger.