সর্বশেষ সংবাদ

অভিনয়ের শুরু থেকেই নির্মাণের প্রতি আগ্রহ ছিল: তানিয়া আহমেদ

 
Had-an-interest-in-acting-since-the-beginning-of-creation-Tania-Ahmed

১৯৯৪, ২০০৪, ২০১৪- স্মৃতির দশককে এভাবেই ভাগ করেছেন তানিয়া আহমেদ। তিন দশক পার হয়ে গেলো। একটু একটু করে বয়স বেড়েছে হয়তো। বেড়েছে অভিজ্ঞতা। মডেল থেকে কোরিওগ্রাফার, অভিনেত্রী, পরিচালক- নামের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন পালক। মুক্তি পাচ্ছে তার নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘ভালোবাসা এমনই হয়’।


শোবিজ: কেমন আছেন আপনি?
তানিয়া: এই তো বেশ ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন?

শোবিজ: ভালো আছি। কিছুদিন আগে আপনি ইন্দো বাংলা বর্ষা সুন্দরী বিচারক হয়েছেন?
তানিয়া: হ্যাঁ। এখন তো দুই বাংলা নিয়ে অনেক কিছুই হচ্ছে। দুই বাংলা মিলেই এই অনুষ্ঠানটি করা হচ্ছে। যেখানে সুন্দর মেয়েরা থাকছে। তাদের নিয়েই এই অনুষ্ঠান। ৮ থেকে ১০ জন মিলে আমরা বিচারক আছি। আমরো সেরা তিন জন সুন্দরী নির্বাচিত করব। যারা পরর্বতীতে দুই বাংলাতেই নাটক, চলচ্চিত্রে কাজ করবে।

শোবিজ: এই দুই বাংলার কাজ নিয়ে আসলে কি মনে করছেন আপনি?
তানিয়া: তেমন কিছু মনে করবার নেই। সময় এখন হয়েছে বাংলাদেশের মানুষ বাইরে গিয়ে কাজ করবে আবার বাইরের দেশ থেকে এসে কাজ করবে। এটা সংস্কৃতি বিকাশের মাধ্যম তৈরি হয়েছে। আসলে দুই বাংলা যদি মিলেমিশে কাজ করতে পারে সেখানে তো আপত্তি থাকবার কথা নয়।

শোবিজ: কয়েক দিন আগেই তো ফেয়ার এন্ড হ্যান্ডসাম এর ফাইনাল হলো। এটা নিয়ে কিছু বলুন?
তানিয়া: হাজার হাজার প্রতিযোগী থেকে বাছাই করে সেরা তিনজন নির্বাচিত হয়েছে। যাদেরকে নির্বাচিত করা হয়েছে। আশা করি তারা অনেক ভালো কিছু করবে সামনে। দোয়া থাকলো সবসবময় তাদের জন্য।

শোবিজ: বর্তমানের টিভি নাটক নিয়ে কিছু বলুন?
তানিয়া: বেশ কয়েকটি ধারাবাহিক নাটক নিয়ে ব্যস্ত রয়েছি। এর মধ্যে ‘হিং টিং ছট’ নামের একটি ধারাবাহিক নাটক করতে থাইল্যান্ডে আছি। এটা শেষ করে ফিরবো ২৬ অক্টোবর। ফিরে এসে দেশে এক ঘণ্টার কয়েকটি নাটক করবার কথা রয়েছে। দেখি কি হয় সামেন।

শোবিজ: অভিনয়ের পাশাপাশি তো একজন পরিচালকও। আপনার নির্মাণের কি খবর?
তানিয়া: বিশেষ নাটকগুলো তো নির্মাণ করেই থাকি। এখন আমার প্রথম নির্মিত চলচ্চিত্র মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে শিগগিরই। ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ব্যানারে চলচ্চিত্রটি মুক্তি পাবে। নাম ‘গুড মর্ণিং লন্ডন’। তবে নাম পরির্বতন করা হয়েছে। এতে অভিনয় করেছেন বিদ্যা সিনহা মীম ও ইরফান সাজ্জাদ।

শোবিজ: চলচ্চিত্রটির গল্প নিয়ে যদি একটু বলতেন?
তানিয়া: এটা সম্পূর্ণ একটি ভালোবাসার চলচ্চিত্র। তাই নাম ‘গুড মর্ণিং লন্ড ‘ পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘ভালোবাসা এমনই হয়’। ভালোবাসার তো শুধু প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যে কোন ভালো সম্পর্কের মধ্যেই ভালোবাসা রয়েছে। সেই জায়গা থেকেই চলচ্চিত্রটির মূল গল্প। মূলত তিনটি গল্পের মিশ্রণে একটি গল্প রয়েছে আমার চলচ্চিত্রটিতে।

শোবিজ: এই ধরনের গল্পে কেন চলচ্চিত্র নির্মাণ করলেন?
তানিয়া: আমার ইচ্ছাই ছিল আমি এই ধরনের গল্পে কাজ করব। আমার চলচ্চিত্রে ৬টি গান থাকবে, অ্যাকশেন থাকবে, প্রেম, ভালোবাসা থাকবে। আমি কোন কঠিন গল্পে যেতে চাইনি। এটা আমার নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র। আর তাই আমি চেয়েছি যাতে করে মানুষ চলচ্চিত্রটি দেখুক। তাই আমার এই ধরনের গল্পে কাজ করা।

শোবিজ: আপনার চলচ্চিত্রে মীম এর অভিনয় নিয়ে কি বলবেন?
তানিয়া: মীম অবশ্যই একজ ভালো অভিনেত্রী। সে প্রথমবারের মতো আমার চলচ্চিত্রের জন্য আইটেম গানের সঙ্গে নেচেছে। অনেক ভালো করেছে সে। আমার এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমেই সে শর্ট ড্রেস পরেছে। এরপর সে অনেক চলচ্চিত্রে শর্ট ড্রেস পরেছে। তবে প্রথম প্রথম পরতে চায়নি। কিন্তু আমার প্রতি তার আস্থার জায়গা ছিল বিধায় সে শর্ট ড্রেস পরে অভিনয় করেছে।

শোবিজ: আপনার নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র। অন্য চলচ্চিত্র থেকে আপনার চলচ্চিত্রে কি কোন পার্থক্য রয়েছে?
তানিয়া: অবশ্যই রয়েছে। আমার  প্রথম চলচ্চিত্রে যেহেতু তাই একটু বেশি খেয়াল রেখেছি সব কিছুতেই। আর একটি বিষয় হলো, আমি বর্তমান সময়ের চলচ্চিত্রগুলোতে যা ঘটে তা হলো হয়তো একটি ফ্রেমে নায়ক-নায়িকা খুব বেশি সুন্দর দেখা যাচ্ছেন কিন্তু একই ফ্রেমে তাদের বাবা-মা রয়েছেন তারা অতটা সুন্দর না। আমার চলচ্চিত্রে এই ধরনের কিছু নেই। একটি ফ্রেমে যাতে করে সবাইকে গ্ল্যামার দেখা যায় সেই চেষ্টাটি করেছি।

শোবিজ: একটি চলচ্চিত্র জনপ্রিয়তা পাওয়ার আগে গান একটি বড় মাধ্যম। সেই মাধ্যটিতে আপনারা কি করছেন?
তানিয়া: চলচ্চিত্রটি মুক্তি আগেই গানগুলো মুক্তি দেওয়া হবে। আমি সবসময় গান শুনি। তাই বলছি গানগুলো অত্যন্ত ভালো হয়েছে। এখানে হাবীবের গান রয়েছে কনার গান রয়েছে, এস আই টুটুলের গান রয়েছে। সবারই কিন্তু একটা জনপ্রিয়তা আছে। সেই জায়গা থেকে বলতে পারি। গানগুলো চমৎকার হয়েছে। সবাই শুনলেই বুঝতে পারবেন। মোট ছয়টা গান।

শোবিজ: চলচ্চিত্রটির পুরাটাই লন্ডনে শুটিং করেছেন। দেশের বাইরে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?
তানিয়া: খুবই কষ্টদায়ক দেশের বাইরে কাজ করা। শুধু আমি না। আমার সঙ্গে গিয়েছে তারিক আনাম খান, মিশু সাব্বির, বিদ্যা সিনহা মীম, মীর সাব্বীর, তানজিকা, ইরফান সাজ্জাদ। এই ছয়জন গিয়েছে লন্ডনে। আর একজন ছিলেন লন্ডনের। তারা সবাই ভলো করেছে। সকলা ছয়টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত শুটিং করেছি। ঘুমাতাম মাত্র তিন থেকে চার ঘণ্টা। আমার কোন সহকারী পরিচালক ছিল না। শীতের মধ্যে কাজ করেছি। শীত বলতে লন্ডনের শীত মানে অনেক কঠিন একটি বিষয়। ঠান্ডায় কাজ করতে অনেক কষ্ট হয়েছে। এই অবস্থায় আমার অভিনয় শিল্পীরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছে। এত ঠান্ডাতেও তারা মন দিয়ে শুটিং করেছে। সময় মতো সেটে এসেছে। কেউ ঠান্ডা দেখে কোন ধরনের বায়না ধরেনি। এ কারণে আমি খুশি তাদের জন্য।



Designed by Copyright © 2014
Powered by Blogger.