সর্বশেষ সংবাদ

লাভ এন্ড হেট রিলেশনশিপের গল্প


Story-of-Love-and-Relationship-Head 

 সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিতব্য সিঙ্গাপুর ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভালে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে তরুণ নির্মাতা আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ সাদের ‘লাইভ ফ্রম ঢাকা’। ২ ডিসেম্বর সিনেমাটির প্রিমিয়ার হবে। পরদিন আরো একটি প্রদর্শনী হবে। এছাড়া স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ডের জন্য প্রতিযোগিতায়ও লড়বে ছবিটি। সাদা-কালোয় নির্মিত ৯১ মিনিট ব্যাপ্তির পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশে মুক্তির কথা রয়েছে। ছবিটির মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোস্তফা মনোয়ার ও অন্যতম প্রধান চরিত্রে তাসনোভা তামান্না। তাদের একান্ত সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে ‘লাইফ ফ্রম ঢাকা’সহ সিনেমা নিয়ে নানা প্রসঙ্গ।



প্রথম সিনেমার প্রিমিয়ার হচ্ছে সিঙ্গাপুর ফিল্ম ফেস্টিভালে। এশিয়ার ফিল্ম ফেস্টিভালগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম এবং বেশ প্রশংসিত। সেক্ষেত্রে প্রথমেই পৌঁছে যাচ্ছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে….

তাসনোভা তামান্না : এটা আমার প্রথম সিনেমা না। ২০১০ সালে প্রথম একটি সিনেমার কাজ করি কিন্তু দূর্ভাগ্যবশত ওই সিনেমার শ্যুটিং শেষ হওয়ার পর এখন সেটা কোন অবস্থায় আছে আমার জানা নেই। যেহেতু ওই সিনেমা মুক্তি পায়নি তাই ধরেই নিচ্ছি যেটা প্রথমে মুক্তি পাচ্ছে সেটাই আমার ব্রেক হবে। প্রথম সিনেমা বের হচ্ছে এবং সেটা সিঙ্গাপুর ফিল্ম ফেস্টিভালের মতো জায়গায় যাচ্ছে যেটা এশিয়ার ওয়ান অফ দ্য প্রেস্টিজিয়াস ফিল্ম ফেস্টিভাল তাই স্বাভাবিকভাবেই খুব এক্সাইটেড আছি। আরো এক্সাইটেড যে সিনেমাটি সেখানে খুব প্রশংসিত হয়েছে, বিশেষ করে আমাদের যে মেইন ক্যারেক্টার মোস্তফা মনোয়ার, তার অভিনয় ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে।

মোস্তফা মনোয়ার : আমিও ভীষণভাবে এক্সাইটেড। অভিনয় তো করছি বহুদিন যাবৎ সেখানে এই ধরনের একটা সুযোগ পাওয়া আর সেটা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যাওয়া তো ভালোলাগার মতো বিষয়।

‘লাইফ ফ্রম ঢাকা’র সঙ্গে সম্পৃক্ততা কীভাবে হল?

তাসনোভা তামান্না : লাইফ ফ্রম ঢাকার নির্মাতা সাদ আর আমাদের এক বন্ধু তানভির আহমেদ চৌধুরী ওরা দুজনই চট্টগ্রাম থেকে এসেছে এবং পূর্ব পরিচিত। সাদ যখন চিত্রনাট্য লিখছিলো তখন তানভিরের সঙ্গে সেটা শেয়ার করে। চরিত্রগুলোর জন্য ও এমন মানুষ খুঁজছিলো যারা ওর সঙ্গে সিঙ্ক হয়ে কাজ করতে পারবে। তানভিরই তখন আমার নাম সাজেস্ট করে।

মোস্তফা মনোয়ার : আমার সাথেও তানভিরের মাধ্যমেই পরিচয়। আর সাদের কথা পরিচয়ের আগে থেকেই শুনেছিলাম যে ও ভালো কাজ করছে। প্রথম দেখাতেই ওর সাথে কথা বলে ভালো লাগে। ও তখন আমাকে চিত্রনাট্যের একটা ড্রাফট কপি দেয়। চিত্রনাট্যের কাজ তখনও সম্পূর্ন হয়নি। এরপর চিত্রনাট্যের যে কোনো পরির্বতন বা ডেভেলপে আমাদের যোগাযোগ হতো। এভাবেই ফিল্মে ইনভলভ হওয়া।

‘লাইফ ফ্রম ঢাকা’ তো পুরোটাই সাদা-কালো ফরমেটে নির্মিত। এটার পিছনে নিশ্চয় কোনো ফিলোসফি আছে?

মোস্তফা মনোয়ার : সাদকে আমি প্রশ্ন করেছিলাম সাদা-কালো কেন? ও তখন বলেছিলো ঢাকা নিয়ে যখন কোনো কাজ করতে যাবে, ওর চিন্তায় তখন ও কোনো কালার দেখিনি। ওর মনের ভেতর ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট ইমেজই এসেছিলো। সো মনে যা দেখেছে সেভাবেই ও কাজটা করতে চেয়েছে। এটা হচ্ছে প্রধান কারণ।

তাসনোভা তামান্না: সাদা-কালো কেন এটা সবচেযে ভালো বলতে পারবে নির্মাতা। আমরা এটুকু ফিল করেছি যে- ঢাকার সঙ্গে আমাদের এক ধরনের লাভ এন্ড হেট রিলেশনশিপের গল্প। এই গল্পটা কখনো সেটা ব্ল্যাক, কখনো হোয়াইট। তাই হয়তো ‘ঢাকা’কে নিয়ে নির্মান করা বলেই সাদা-কালো ফরমেট। 

বাস্তবে তো আমরা নানা রঙে বা আবহে নিজেদের দেখতে অভ্যস্ত। সাদা-কালো ফরমেটের জন্য এই সিনেমায় কাজের ক্ষেত্রে বাড়তি কোনো চাপ ছিলো কী?

মোস্তফা মনোয়ার : আমার ভেতর বাড়তি কোনো চাপ ছিলো না। চাপ ছিলো না এই কারণেই যে আমি ছবি তুলতে খুব পছন্দ করি। ঢাকার প্রচুর ছবি আমি তুলেছি। আমার ছবিগুলোও ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইটেই তুলতে পছন্দ করি। তাই সাদা-কালো ফরমেটের ফিল্মে অফার পাওয়া আমার জন্য খুব এক্সাইটেড ব্যাপার ছিলো।

সিনেমায় আপনাদের দুজনের চরিত্র নিয়ে কিছু বলবেন?

তাসনোভা তামান্না : আমার চরিত্রের নাম রেহানা। ঢাকার মধ্যবিত্ত পরিবারের একটি মেয়ে যে লেখাপড়া শেষ করে ব্যাংকে চাকরী করছে। তার একজন প্রেমিক আছে। রেহানা আর পাঁচ-দশজনের মতো অরডিনারি মেয়ে, তার স্বপ্নগুলোও অন্য মেয়েদের মতোই। গল্পের মূল চরিত্রের নাম সাজ্জাদ। মূলত পুরো গল্পটাই সাজ্জাদের পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে দেখানো হয়েছে। রেহানার কোনো ব্যাকগ্রাউন্ড সিনেমায় দেখানো হয় না, সাজ্জাদকে আরো ডিটেইল করে দেখানোর জন্য রেহানার ক্যারেক্টারটা গল্পে প্রয়োজন ছিল।

মোস্তফা মনোয়ার : আমি সাজ্জাদের চরিত্রটা করছি। ওর শারিরীক কিছু প্রতিবদ্ধকতা আছে ফলে ও অন্য কোনো কাজ করতে পারে না। শেয়ার বাজারের ব্যবসা শুরু করে। প্রথম যখন শুরু করেছিলো তখন খুব ভালো চলছিলো কিন্তু শেয়ার বাজারে ধস নামার পর ওর জীবনে নানা ধরণের সমস্যা দেখা যায়। ওর ভাই হচ্ছে একজন ড্রাগ এ্যাডিক্ট। ভাইকে ওর দেখাশোনা করতে হয়। শারিরীক সমস্যার কারণে সব সময় ওর মধ্যে এক ধরণের ইনসিকিউরিটি কাজ করে। সেই ইনসিকিউরিটি প্রেমিকার সাথে তার সম্পর্ককেও প্রভাবিত করেছে। এই ভয়ের কারণে সে সব সময় প্রেমিকাকে উলটা ডমিনেট করতে শুরু করে। একই সাথে ও সেলফিস এবং যেই ভ্যালুসগুলো নিয়ে আমরা বড় হই যে বাবা-মাকে কথা দিয়েছি সেটা রাখতে হবে, ছোটভাইকে দেখে রাখতে হবে, এই ভ্যালুসগুলো সাজ্জাদ যেমন বিলিভও করে আবার একটা দ্বন্দ্বও সব সময় তার মধ্যে কাজ করে।  সাজ্জাদের এই দ্বন্দ্ব, ঢাকার জীবন, শেয়ারবাজার ধসের কারণে ঋনের বোঝা, প্রেমিকার সাথে এক ধরণের মনমালিন্য, ছোটভাই সবকিছু নিয়ে গল্পের কাহিনী এগোতে থাকে।

ট্রেইলার দেখে বোঝা যায় খুব জীবন ঘনিষ্ট ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিনেমার কাহিনী এগিয়েছে। ট্রেইলারে কিছু ‘র’ সংলাপও আমরা দেখতে পেয়েছি। এই ধরণের ‘র’ সংলাপের সিনেমায় অভিনয়ের জন্য চিত্রনাট্য পাওয়ার কী প্রতিক্রিয়া হয়েছিলো?

মোস্তফা মনোয়ার : এর আগেও আমি অনেক কাজ করেছি। সিনেমার কাজ এই নিয়ে তিনটা করা হলো। তবে এই চিত্রনাট্য পাওয়ার পর আমার মনে হয়েছে এই ক্যারেক্টারটা করার জন্য আমি অনেকদিন ধরে অপেক্ষা করছিলাম। আমার কাছে মনে হয়েছে যে কোনো আর্টিস্টের কাছেই এটা একটা ড্রিম ক্যারেক্টার। ক্যারেক্টারটার এত ডাইমেনশেন, আমার কাছে এটা খুবই চ্যালেঞ্জিং মনে হয়েছে। আমার বারবার মনে হয়েছিলো, এই রকম একটা ক্যারেক্টার আমি খুঁজেছি, সুযোগ পেয়েছি পরে যেন রিগ্রেট না করি যে সুযোগ পেয়েও কাজটা আমি ঠিক মতো করিনি। তাই আমি আমার হান্ড্রেড পারসেন্ট দেওয়ার চেষ্টা করেছি।

তাসনোভা তামান্না : আই ওয়াজ ভেরি হ্যাপি। আই লাইক মাই ক্যারেক্টার, আই লাইক দ্য স্ক্রীপ্ট, আই লাইক দ্য স্টোরি এন্ড আই লাইক দ্য আইডিয়া। এটা সাদা-কালো ফরমেটে তৈরি নাকি কালার ফরমেটে, বাজেট কম নাকি বেশি, সংলাপ ‘র’ নাকি সফট এগুলো মাথাতেই আসেনি। চিত্রনাট্যটাই ছিলো আমাদের পুরো সিনেমার জীবন, আমরা সেটাকে ফিল করে কাজ করেছি। নির্মাতা সাদ, ক্যারেক্টারের বিহেভিয়্যারকে ধরতে চেয়েছে আমরা সেটাকে পূর্নতা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।

কেনো মনে হয় সিনেমাটি মানুষ দেখবে বা লাইফ ফ্রম ঢাকার কোন বিষয়টাকে তাৎপর্যপূর্ন মনে হয়?

মোস্তফা মনোয়ার : আমার কাছে লাইফ ফ্রম ঢাকা খুবই এনগেজিং মনে হয়েছে। ঢাকাকে নিয়ে গল্প যেভাবে এগিয়েছে আমার অন্তত মনে হয় এটা মানুষকে গল্পের সাথে রিলেট করতে পারবে।

সিনেমায় শেয়ারবাজার নিয়ে কিছু দৃশ্য আছে। পাশাপাশি সংলাপগুলোও কিছুটা ‘র’। এখনো এটা সেন্সরের জন্য জমা দেওয়া হয়নি। আপনাদের কী মনে হয় সেন্সরে এটা কাটছাট ছাড়াই ছাড় পাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে?

মোস্তফা মনোয়ার : শেয়ার বাজার নিয়ে কোনো ঝামেলা হওয়ার কথা না। এটা রিয়েল ঘটনা এবং ফুটেজগুলোও রিয়েল। আমার মনে হয় না এটার জন্য সেন্সরে কাটছাট হবে।

তাসনোভা তামান্না : ২০১৬ সালে এসে টুকটাক ‘র’ সংলাপের জন্য যদি সেন্সরে আটকায় সেটা খুব দুঃখজনক হবে। আমরা যেই ইন্টারন্যাশরাল ফিল্মগুলো দেখি সেগুলোর অধিকাংশই জীবন থেকেই নেওয়া হয়। শুধু যে শো অফ করার জন্য ‘র’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে বিষয়টা এমন না। গল্পের প্রয়োজনে, প্রসঙ্গিক বলেই ইউজ করা হয়েছে।

আমাদের দেশের প্রচলিত সিনেমার বাইরে লাইফ ফ্রম ঢাকা। এই ধরণের সিনেমা দর্শকদের রুচিতে প্রভাব ফেলতে পারবে বলে মনে হয়?

মোস্তফা মনোয়ার : অফট্র্যাক তো আসলে না। আমাদের এই সিনেমার লিড ক্যারেক্টারে আমার জায়গায় শাকিব খান থাকলেই এটা বাণিজ্যধারার সিনেমা হতো। কোনো স্টার নেই বলেই আপনি বা অন্য সবাই এটাকে অফট্র্যাক বলছেন। আর ফিল্ম ভালো হলে মানুষ অবশ্যই দেখবে। অফট্র্যাকের সিনেমা মানুষ দেখে না কেনো? হাই থট হোক, হোয়াটএভার হোক, সিনেমা ভালো হলে মানুষ দেখবেই। যেগুলো মানুষ দেখে না, বুঝতে হবে সেগুলো তাদের টানে না। ভালো হয় না বলেই তারা হলমূখী হয় না। 

অতীতে অফট্র্যাকের সিনেমাগুলো প্রভাব ফেলতে না পারার কারণগুলো কী বলে মনে হয়?

মোস্তফা মনোয়ার : সিনেমা যদি মানুষের সাথে কমিউনিকেট করতে না পারে তবে সেই সিনেমা মানুষকে প্রভাবিত করতে পারবে না। ভালো গল্প হলে অফট্র্যাক-অনট্র্যাকের বিষয় মূখ্য না। আমি একটা গল্প দেখে যদি এক্সাইটেড হই তাহলে অবশ্যই সেটা আমার ভালো লাগবে। ওই এক্সাইটেডমেন্ট তৈরি করতে পারেনি বলেই প্রভাব ফেলে না।

প্রচলিত ধারা বা ভিন্নধারা নিয়ে যে মতবিরোধ, এই বিতর্ককে কীভাবে দেখেন? কোনটাকে প্রচলিত ধারা বা কোনটাকে ভিন্নধারা বলা হয় বা এটা ডিসাইডই বা কারা করে?

তাসনোভা তামান্না : অফট্র্যাক বলে কী আসলে কিছু আছে সিনেমায়? আমাদের দেশের সিনেমাকে হয়তো এখন দুইটা ভাগে ভাগ করা হয়- একটা এফডিসি কেন্দ্রীক অন্যটা এফডিসি নির্ভর নয়। সব সিনেমাই আসলে সিনেমা সেখানে এই বিভক্তির প্রয়োজন আছে বলে আমার মনে হয় না।

সিনেমার ট্রেলারের প্রাথমিক রেসপন্স বলছে আপনাদের অভিনয় অনেকদিন আলোচনায় থাকবে…

মোস্তফা মনোয়ার: এই সিনেমায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে অভিনয়টাকেই। আর সেখানে পরিচালক আমাদের পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন। আর্টিস্টদের প্রতি তার পূর্ণ আস্থা ছিলো, কাজের ক্ষেত্রে এটা খুব জরুরি। সেই জায়গা থেকে এ্যাক্টিং নিয়ে আমরা ভিষণ এ্যাম্বিশাস ছিলাম।

তাসনোভা তামান্না : মানুষ যে এ্যাক্টিং নিয়ে এপ্রিশিয়েট করছে আমি সেখানে পরিচালককে এপ্রিশিয়েট করতে চাই। যেভাবে সে আর্টিস্ট ডিল করে, আর্টিস্টদের সে যেভাবে সম্মান দেয়, কাজের ক্ষেত্রে বন্ধুত্বপূর্ন সিচ্যুয়েশন ক্রিয়েট করে, সবকিছু এত বেশি ফ্লেক্সিব্যাল করে দিয়েছিলো যে কাজ ভালো হতে বাধ্য। আর আমার কাজ যদি মানুষের ভালো লেগে থাকে তার্ ক্রেডিটও পরিচালককেই দিতে চাই, সে সেটা বের করে আনতে পেরেছে।

এই ফিল্মের মাধ্যমে শো-বিজের নতুন একটা ধারায় প্রবেশ করলেন, একে ঘিরে ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী?

তাসনোভা তামান্না : কাহিনী এবং চরিত্রনির্ভর সিনেমা আরো হলে অবশ্যই কাজ করতে চাই। আর সার্ভাইব্যালের একটা বিষয় থাকে, ওইটাও আমাদের ব্যালেন্স করতে হয়। আমি হুট করেই বলে দিতে পারবো না যে আমি খুব ভালো একটা স্ক্রীপ্টের জন্য বসে আছি, সেটা আসলেই কেবল আমি কাজ করবো নাহলে করবো না বিষয়টা এমন না। তবে চাই ভালো স্ক্রীপ্ট আসুক যেখানে নিজেকে এক্সপ্লোর করতে পারবো।

মোস্তফা মনোয়ার: নতুন করে এই সিনেমার জন্য আলাদা কোনো পরিকল্পনা আছে এই রকম না। যেভাবে করে যাচ্ছিলাম সেভাবেই করবো। আমি বছরে একটা বা দুইটা কাজ করি। কম কাজ করি কিন্তু সেগুলো মিনিংফুল কাজ হোক এটাই চাই। অভিনয়ের পাশাপাশি আমি চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ করি। আমার বেশ কিছু চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ হয়েছে, সো সেটাও চালিয়ে যেতে চাই। এ্যাক্টিং নিযে আমি সব সময়ই সিনসিয়ার ছিলাম, অবশ্যই এখন আরেকটু বেশি মনোযোগ দিবো।

প্রথাগত নাচ-গান সম্বলিত সিনেমায় কাজ করার ইচ্ছা আছে?

মোস্তফা মনোয়ার: স্ক্রীপ্ট যদি আমাকে এক্সাইট করে, যদি মনে হয় এই রকম সিনেমা করে মজা পাবো তবেই আমি করবো।

তাসনোভা তামান্না: কাহিনীর জন্য যদি নাচ-গান প্রাসঙ্গিক হয় আর সেই কাহিনী যদি আমার ভালোর লাগে তাহলে অবশ্যই, কেনো করবো না?

অভিনয় করতে গিয়ে, অভিনয়ের ক্ষেত্রে কোন জিনিষটাকে বেশি জরুরি মনে হয়েছে?

তাসনোভা তামান্না: ইউ হ্যাভ টু বি দ্যাট ক্যারেক্টার। যতক্ষণ আমি ওই ক্যারেক্টার প্লে করছি আই এম নট মাইসেলফ। আমি এখন তামান্না, কিন্তু লাইফ ফ্রম ঢাকায় আমার ক্যারেক্টার রেহানা- ওই রেহানায় যেন কেউ তামান্না খুঁজে না পায়। কারণ আমি ব্যক্তি তামান্না ইজ অ্যা ডিফরেন্ট তামান্না। যখন আমি কোনো ক্যারেক্টার প্লে করবো, আমি যেন সেটাই হয়ে যাই। অর্থাৎ ক্যারেক্টারের ভেতর ঢুকে যাওয়া, ইনভলভড হয়ে যাওয়া দ্যাটস ইট।

মোস্তফা মনোয়ার: গল্পটা বুঝা খুব জরুরি। তারপর বুঝতে হবে গল্প থেকে চরিত্রটা যোগ করলে কী হবে আর বিয়োগ করলে কী হবে। ক্যারেক্টারের ইনভলভনেস বুঝতে হবে তাহলে বুঝা যাবে ওই ক্যারেক্টার থেকে কী এসপেক্ট করা হচ্ছে। আমি চিত্রনাট্য পাওয়ার পর ক্যারেক্টারের সারাউন্ডিংস সাজাই, পরে অন্য পার্টগুলোতে যাই লাইক বডি ল্যাঙ্গুয়েজ কী হবে, কথা বলা কেমন হবে এটা আমাকে অনেক হেল্প করে।

‘লাইফ ফ্রম ঢাকা’ বাংলাদেশে মুক্তির সম্ভাবনা কবে? প্রস্তুতি কী রকম?

তাসনোভা তামান্না: সিঙ্গাপুর ফিল্ম ফেস্টিভাল থেকে আসার পরে হয়তো আমরা বুঝতে পারবো।

মোস্তফা মনোয়ার: রিলিজ হওয়ার প্রাইমারী প্ল্যান আসলে জানুয়ারিতে। ফেস্টিভালের ইমিডিয়েটলি ২০-২৫ দিনের মধ্যেই রিলিজ দেওয়ার কথা। এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নই।



Designed by Copyright © 2014
Powered by Blogger.