সর্বশেষ সংবাদ

সকল নায়কের রাজা, রাজ্জাক (Razzak) এখনও সকলের রাজা

ঢাকাই ছবির সোনালী যুগের রাজা ছিলেন তিনি; পাঁচ দশকেরও বেশি সময়জুড়ে বাংলাদেশের বিনোদন জগতে রয়েছে তার দাপুটে অবস্থান। নায়করাজ রাজ্জাক (Razzak) ২৩ জানুয়ারি পা রাখলেন জীবনের ৭৬ তম বর্ষে। এইদিনে তার পরবর্তী প্রজন্মের অভিনেতারা জানালেন তার সম্পর্কে তাদের মূল্যায়ণ।

 

রিয়াজঃ হি ইজ দ্য কিং। আমাদের কাছে তিনি এখনও রাজা। তিনি আমার মনের রাজা।

একারণেই নায়করাজকে আমরা সবাই এখনও ফলো করি। তার কথা বলার স্টাইল, অভিনয়- সব কিছুই আমরা ফলো করি। তাকে দেখে বড় হয়েছি, তাকে ফলো করেই আমরা অভিনয় শিখেছি। আর ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির প্রতি তার যে ডেডিকেশন, সেটা আমাদের এখনও আপ্লুত করে। এটা আনবিলিভেবল।

তার অভিনীত প্রায় সব সিনেমাই আমার প্রিয়। তবে ‘রংবাজ’ সিনেমায় যেভাবে নিজেকে ভেঙেছিলেন, আর সেই সিনেমা যেভাবে বাংলা ছবিতে একটা চেইঞ্জ নিয়ে এসেছিল, সেটা অনেকদিন মনে থাকবে।

ববিতা ম্যাডাম একজন ভার্সেটাইল অ্যাকট্রেস তবে আমি বলবো, জুটি হিসেবে তার পাশে মানাতেন কবরী আপাই।

বাপ্পী চৌধুরীঃ আমার জীবনের প্রথম শুটিং ছিল রাজ্জাক (Razzak) স্যারের সঙ্গে, ‘ভালোবাসার রং’ সিনেমায়। আমার ক্যারিয়ারের আরও একটি সিনেমায় আমি রাজ্জাক (Razzak) স্যারের সান্নিধ্যে কাজের সুযোগ পেয়েছি, ‘অন্যরকম ভালোবাসা’য়। ওনার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা ছিল দারুণ। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, সেই অভিজ্ঞতা থেকে আমি এতো কিছু শিখেছি যে, সেটাই আমাকে আজকের বাপ্পী চৌধুরী হিসেবে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হতে সাহায্য করেছে।

‘ময়নামতি’র রিমেইক ‘অনেক সাধের ময়না’তে যখন আমি স্যারের চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেলাম, বেশ ভয়েই ছিলাম। কারণ নায়করাজ রাজ্জাকের ভূমিকায় অভিনয় করছি, এতো বড়মাপের একজন শিল্পীর অভিনয়ের সঙ্গে আমার অভিনয়ের তুলনা করা হবে!

কিন্তু ছবি মুক্তি পেল যখন, রাজ্জাক (Razzak) স্যার আর আমি একসঙ্গে বসেই সিনেমাটি দেখি। সেসময় তিনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বলেছিলেন, “অনেক ভালো করেছিস। আমাদের সময় এতো প্রযুক্তি ছিল না, আজকের দিনে ‘ময়নামতি’ তৈরি হলে, এভাবেই তৈরি হতো। অনেকদূর যাবি তুই।”

সেদিন রাজ্জাক (Razzak) স্যারের এই কথাগুলোই আমার অভিনয় ক্যারিয়ারের পাথেয় হয়ে দাঁড়ায়।

তার অনেক সিনেমাই আমার প্রিয়। ‘জীবন থেকে নেওয়া’, ‘ময়নামতি’র কথা বলতে হয় আলাদা করে। এছাড়াও ‘রংবাজ’-এর কথা তো কেউ কোনোদিন ভুলবে না। আমাদের সময়ের সবচেয়ে হিট সিনেমা ছিল এটি।

জুটি হিসেবে আমি বলবো, কবরী আপা আর ববিতা ম্যাডাম- দুজনের সঙ্গেই রাজ্জাক (Razzak) স্যারের অভিনয় ছিলো হিট।

চঞ্চল চৌধুরীঃ ছোটোবেলা থেকেই তিনি ছিলেন আমাদের প্রিয় নায়ক। তার সিনেমা দেখতে দেখতেই বড় হওয়া। ওপার বাংলায় যেমন উত্তম-সুচিত্রা, এপারে তেমনি রাজ্জাক-কবরী, কিংবা রাজ্জাক-ববিতা। অভিনয়ের অনুপ্রেরণা এদের কাছ থেকেই পাওয়া।

তার অনেক সিনেমাই প্রিয়, একটার নাম বলা কঠিন। তবে সিনেমা হিসেবে আমি বলবো ‘জীবন থেকে নেওয়া’র কথা। এই সিনেমাটি শৈল্পিক তো বটেই, ঐতিহাসিক দিক থেকেও অনেক গুরুত্ব বহন করে।

আনিসুর রহমান মিলনঃ উপাধিটাই তো বলে দেয় সব। বাংলাদেশে ‘নায়করাজ’ একজনকেই ডাকা হয়। তিনি হলেন রাজ্জাক।

আমরা যখন ওনার অভিনীত সিনেমা ‘ময়নামতি’র রিমেইক ‘অনেক সাধের ময়না’তে কাজ করেছিলাম, তখন উনি আমাদের সিনেমা দেখতে এসেছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, আমরা যারা কাজ করেছি, (আমি, বাপ্পী চৌধুরী আর মাহিয়া মাহি) আমরা তার সিনেমাটিকে এই সময়ের প্রেক্ষিতে একদম সঠিকভাবেই তুলে ধরতে পেরেছি। তারাও যদি আজকের দিনে ‘ময়নামতি’ বানাতেন, তবে তা ‘অনেক সাধের ময়না’র মতোই হতো। এইভাবে রাজ্জাক (Razzak) চাচার নিজ মুখের প্রশংসা অভিনেতা হিসেবে আমাদের জন্য ছিল অনেক বড় অনুপ্রেরণার।

তার অনেক সিনেমাই আমার প্রিয়। তবে সবচেয়ে প্রিয় সিনেমা হলো ‘রংবাজ’। আর কবরীর বিপরীতে তার জুটিই বাংলাদেশের সেরা বলে আমার মনে হয়।



Designed by Copyright © 2014
Powered by Blogger.