সর্বশেষ সংবাদ

যে জলে আগুন (Agun) জ্বলে

'আজকের এই দিনের জন্য কত যে প্রতীক্ষা ছিল, তা বলে বোঝানো যাবে না। প্রতিটা ক্ষণ ছিল বছর সমান। সেই ক্ষণগুলোয় মগজের কোষ তৈরি করেছে একটাই কল্পচিত্র। চলচ্চিত্রের মতো মনের পর্দায় বারবার ভেসে উঠেছে- মিছিল গিটার বাজাচ্ছে, আমি গাইছি। আজ এই কল্পদৃশ্যের সঙ্গে বাস্তবের কতটা মিল খুঁজে পাব জানি না। তারপরও আমি প্রস্তুত দৃশ্যটাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য। ঘড়ি ধরে আমি আর মিছিল পেঁৗছে যাব বিটিভির স্টুডিওতে। দু'জনের হাতেই থাকবে গিটার। মিছিলের আঙুল স্পর্শ করবে গিটারের ছয় তার। বাজবে প্রিলুড। সেটা শেষ হওয়ার মুহূর্তেই গেয়ে উঠব আমি, আমার স্বপ্নগুলো...।' আগুন  (Agun) যখন এই কথাগুলো বলছিলেন, তখন মনে হলো, তিনি একটা ঘোরের মধ্যে আছেন। থাকতেই পারেন।

যে জলে আগুন (Agun) জ্বলে

 কেননা আজ ছেলে মিছিলের সঙ্গীত বাদনের সঙ্গে প্রথম কোনো টিভি অনুষ্ঠানে গাইবেন তিনি। এটা যে কোনো বাবার জন্যই সৌভাগ্যের। এ কথা স্বীকার করেন আগুন নিজেও। যদিও অনেকেই মানেন, তার উত্তরসূরি শিল্পী হবেন। কারণ তার পূর্বসূরিরাও দেশনন্দিত শিল্পী। যাদের দেখে একই পথের পথিক হয়েছেন আগুন নিজেও। অ্যালবামের পাশাপাশি প্লেব্যাক, টিভি আয়োজন ও স্টেজ শোতে গান গেয়ে চলছেন অবিরাম। একইসঙ্গে কুড়িয়ে নিচ্ছেন অগণিত ভক্ত-শ্রোতার ভালোবাসা। যে জন্য তার বংশধররা গানের সঙ্গে যুক্ত হবেন, এটাই ধরে নেওয়া স্বাভাবিক। তাই মিছিলকে গিটার বাজিয়ে গাইতে দেখলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। শুধু তাই নয়, কখনও যদি তার ছোট ছেলে মশালকেও আমরা গাইতে দেখি, তখনও তা হবে না বিস্মিত হওয়ার মতো কোনো ঘটনা। বরং কবির মতে বলতে হবে, যে জলে আগুন জ্বলে- এ হলো তারই নজির। অবশ্য এরই মধ্যে তার কিছু আভাসও পাওয়া গেছে। আট বছর বয়সী মশালের গিটার বাজানোর আবদার এ কথারই ইঙ্গিত দেয়, তার শরীরেও বইছে সঙ্গীতের শোণিতধারা। ছোট ছেলের এই আবদার পূরণে আগুনের আপত্তি আছে কি? এ প্রশ্নের উত্তরে আগুন বলেন, 'আপত্তি নেই। আর আপত্তি থাকারই বা কী আছে। সঙ্গীত ওর রক্তে বইছে, এটা জানি বলেই কখনও ওকে না করব না। কিন্তু এখন তো ও একেবারে বাচ্চা। নরম আঙুলে গিটারের তার টানাটানি করলে আঙুল কেটে যাওয়ার ভয় আছে। তাই ওর আবদার পূরণে আরও কিছুটা সময় নিতে চাই।' 

আগুনের এ কথায় অনুমান করা যায়, আগুন পরিবারের সদস্যদের ভালো-মন্দের প্রতি নজর রাখেন সবসময়। আসলেই কি তাই? এর জবাবে আগুন বলেন, 'কাজের বাইরে আমি কিন্তু একেবারেই ঘরকুনো। কাজ নেই তো দিনভর বাসায়। স্ত্রী, সন্তানদের জন্যই সময় হাতে রাখি। আড্ডাবাজির 

নেশা ছিল, একসময় এখনও আছে। কিন্তু বাইরে নয়, বাসাতেই আড্ডা দিই। আর আগের মতোই দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঘুমাই। স্টেজ শো থাকলে আগের রাতে পর্যাপ্ত ঘুম চাই-ই চাই। কেবল অভিনয়ের সময় কিছুটা ছাড় দিই। সকাল ৭টায় ঘুম থেকে উঠি। চলে যাই শুটিং স্পটে। এই হলো আমার দিনলিপি।' তার এই কথায় জানা গেল আগুন আগের মতোই আছেন। একটুও বদলে ফেলেননি নিজেকে। কাজের ক্ষেত্রেও রুটিন মেনে চলছেন। নির্দিষ্ট সময় ধরে অভিনয় করছেন। কিছু সময় ব্যস্ত থাকছেন যে জলে আগুন জ্বলে

একক গানের কথা, সুর, সঙ্গীতায়োজনে। এর পাশাপাশি গাইছেন টিভি আয়োজন, প্লেব্যাক ও স্টেজ শোতে। বাকিটা সময় শুধুই পরিবারের জন্য। সঙ্গত কারণেই জানতে চাইলাম, সময়ের সঙ্গে অনেকেই বদলে গেলেও আপনার কোনো বদল ঘটেনি। এর রহস্যটা কী? এর জবাবে আগুন বলেন, 'আমি আমার মতোই থাকতে চাই। এতে লোকে ভালো বা মন্দ যাই বলুক আপত্তি নেই। নিজেকে বদলে ফেলা মানে অন্য মানুষে রূপান্তরিত হওয়া। এটা আমি কখনও চাইনি। স্বার্থের বা সাফল্যের জন্য স্বকীয়তা ছুড়ে ফেলায় কোনো বাহাদুরি নেই। নিজেকে চেনাতে হলে, নিজস্বতা দিয়েই চেনাতে হবে। এমন নয়, যে নিজস্বতা দিয়ে পৃথিবী জয় করা সম্ভব নয়। সম্ভব, কারণ প্রতিটি সুস্থ মানুষ অসীম ক্ষমতার অধিকারী। তাই নিজের প্রতি নিজের আস্থা রাখা জরুরি। জানি না, আমার এই মতের সঙ্গে কতজন একমত হবেন। হোক বা না হোক, আমি এটাই বিশ্বাস করি। তাই নিজস্বতাকে কখনও দূরে ঠেলে দেয়নি। যে জন্য ঘুরেফিরে শিল্পী, অভিনেতা আর ব্যক্তি আগুন একজনই ছিলেন, একজনই আছেন।'



Designed by Copyright © 2014
Powered by Blogger.