সর্বশেষ সংবাদ

কলকাতা সিরিয়াল (Serial) এর তারকাদের রোজগার কেমন?

মধ্যবিত্তের স্বপ্ন দিয়ে তৈরি হয় টিভি সিরিয়াল (Serial)। তাই পোশাক থেকে ‘সিংহি বাড়ি’, ‘রায় পরিবার’-এর সেট তৈরি হয় স্বপ্নের রং দিয়ে। চকচকে বাড়ি, এক গা গয়না, দারুণ দারুণ শাড়ি— সবই স্বপ্নের মতো। আর সেই ধারাবাহিকের অভিনেতা, অভিনেত্রীদের রোজগার? সেও নিশ্চয়ই ধরা-ছোঁয়ার বাইরে! এমনটা যদি কোনও দর্শক ভেবে থাকেন তবে সেটা ভুল ভাবছেন।

কলকাতা সিরিয়াল (Serial) এর তারকাদের রোজগার কেমন?

একটি ধারবাহিকে অভিনয়ের জন্য যে পর্যায়ের পরিশ্রম করতে হয় তার তুলনায় কলকাতা টেলি তারকাদের রোজগার অনেকটাই কম। কয়েকজন প্রথম শ্রেণির অভিনেতা-অভিনেত্রী মাসে ৬০-৭০ হাজার রুপি ধারাবাহিক থেকে পেয়ে থাকেন বটে, কিন্তু তাদের সংখ্যা নেহাতই কম। বাকিদের রোজগার মাসে গড়ে ৪০ হাজার রুপি থেকে ৫০ হাজার রুপি। তার উপর আবার থাকে টিডিএস-এর কোপ। তবে এটা অনেকটাই নির্ভর করছে সেই ধারাবাহিকটির প্রযোজক সংস্থার উপর। বড় সংস্থার ক্ষেত্রে আয়টা বেশি হলেও ছোট সংস্থার ক্ষেত্রে অনেক সময়ই তেমন রুপি পাওয়া যায় না।
এর পরের ধাপটা নির্ভর করছে বাজারের উপরে। ধরা যাক, কোনও সিরিয়াল বাজার ধরতেই পারল না। সে ক্ষেত্রে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের আয় না কমলেও বাড়ার সম্ভাবনা থাকে না। বরং একটু একটু করে চরিত্র কমতে থাকে ধারাবাহিকের গল্পে। এক দিনের শুটিং থেকে বেশি এপিসোড বের করে নেওয়ার প্রবণতা দেখা যায় প্রযোজকদের মধ্যে। উল্টো দিক থেকে আবার কোনও সিরিয়াল ভাল টিআরপি পেলে সেখানে বিনিয়োগ বাড়ে। সঙ্গে সঙ্গে অভিনেতা, অভিনেত্রীদের রোজগারও কিছুটা হলেও বাড়ে। আর সেটাই জনপ্রিয় ধারাবাহিক আর কোনও রকমে চলা ধারাবাহিকের শিল্পীদের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দেয়।

তবে এখন বেশির ভাগ টিভি ধারাবাহিকই নারী চরিত্রকেন্দ্রিক। আর মুখ্য চরিত্রের অভিনেত্রী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সব প্রযোজক, পরিচালকেরই নজর থাকে নতুন মুখের প্রতি। আর এই নতুন মুখ ‘নতুন’ থাকার সময় যেমন আয় হয়, তেমনটা হয় না মুখটা একটু পুরনো হয়ে গেলে। এক সময় একটি ধারাবাহিকে অভিনয় করে সাফল্যের শিখরে উঠে যাওয়া অনেক অভিনেত্রীই পরবর্তী কালে জনপ্রিয়তার আড়ালে চলে গেছেন। অনেকে অভিনয় জগৎ থেকেই বিদায় নিয়েছেন। অথচ সেই নায়িকাই ধারাবাহিকটি চলার সময়, কিংবা তারপরও কিছু দিন দর্শকদের নয়নের মণি ছিলেন। সেই সময় তিনি পুজো থেকে দোকানের উদ্বোধন কিংবা মাচার অনুষ্ঠানে কয়েক মিনিটের উপস্থিতির জন্যও ছয় অঙ্কের পারিশ্রমিক পেয়েছেন।

তাই টেলি-পাড়ায় কান রাখলেই শোনা যায়, ধারাবাহিকের থেকে রিয়্যালিটি শো ভাল। কারণ, অল্প পরিশ্রমে সেখানে অনেক বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া যায়। তবে সেখানে তো সুযোগ কম। মূলত চেনা মুখ এবং কিছুটা নামীরাই সেখানে সঞ্চালনার সুযোগ পান। তাছাড়া, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো অভিনয় জগতের বাইরের লোকেরা কিংবা বড় পর্দার অভিনেতা-অভিনেত্রীরা অনেক বেশি অর্থ পান। এমনকী, গায়ক-গায়িকা-সুরকাররা রিয়্যালিটি শোয়ের বিচারকের ভূমিকায় অনেক বেশি পারিশ্রমিকে কাজ করেন।

তবে সেখানেও রয়েছে আকাশ-পাতাল তফাৎ। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো সেলিব্রিটিরা একটি সিজনের জন্য যেখানে কয়েক কোটি রুপি পান, সেখানে মাঝারি মাপের অভিনেতা-অভিনেত্রীরা একটি সিজনে রুপি পান লাখ রুপির হিসেবে। সকলেই যে একটি সিজনের জন্য এক সঙ্গে রুপির চুক্তি করেন, তা নয়। অনেকই প্রতিদিন শুটিং কিংবা প্রতি এপিসোড হিসেবে রুপি নেন। সে যাই হোক, এ ক্ষেত্রে পরিশ্রমের বিচারে রুপির অঙ্কটা ধারাবাহিকের তুলনায় ভাল।

শুধু তাই নয়, রিয়্যালিটি শোয়ের পারিশ্রমিকের হার বাংলা ছবির থেকেও অনেক ক্ষেত্রে বেশি। অল্প বাজেটের সিনেমায় একজন চরিত্রাভিনেতা ১৫ দিনের শুটিং-এর জন্য যে পরিমাণ রুপি পান, তার থেকে অনেক বেশি পাওয়া যায় টিভির নন-ফিকশন অনুষ্ঠানে।



Designed by Copyright © 2014
Powered by Blogger.