সর্বশেষ সংবাদ

ফর্মুলা হিরো থেকে বের করে আনার জন্য কৃতজ্ঞ : শাহরিয়াজ (Shariaz)

নাদের চৌধুরী পরিচালিত ‘মেয়েটি এখন কোথায় যাবে’র প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন শাহরিয়াজ (Shariaz)। তার বিপরীতে আছেন জলি। এছাড়া বেশ কয়েকজন গুণী অভিনয়শিল্পীর সঙ্গও পেয়েছেন শাহরিয়াজ। সম্প্রতি ‘মেয়েটি এখন কোথায় যাবে’ ও অন্যান্য প্রসঙ্গে মুখোমুখি হয়েছিলেন এ নায়ক।

ফর্মুলা হিরো থেকে বের করে আনার জন্য কৃতজ্ঞ : শাহরিয়াজ (Shariaz)

কেমন আছেন?  শুটিংয়ে?

ভালো আছি। কয়েকদিন শুটিং নেই। বাসায় বসে ছবি দেখে সময় কাটাচ্ছি।

কোন দেশের ছবি?

নির্দিষ্ট কোন দেশের না। চোখের সামনে যা পাচ্ছি তা-ই দেখছি।

‘মেয়েটি এখন কোথায় যাবে’ ইমদাদুল হক মিলনের একই নামের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে। উপন্যাসটি পড়েছেন?

না, পড়া হয়নি। মিলন স্যারের উপন্যাস অবলম্বনে হলেও আব্দুল্লাহ জহির বাবু ভাই চিত্রনাট্য করেছেন। সিনেমায় রূপ দিতে গিয়ে উনি বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছেন। শুটিংয়ের আগে পরিচালক নাদের চৌধুরী স্যার আমাদের পুরো স্ক্রিপ্ট দিয়েছিলেন, ওটা পড়েছিলাম।

মামনুর রশীদ, কাজী শিলা, সুব্রত, রাইসুল ইসলাম আসাদ ও ফজলুর রহমান বাবুর মত গুণী অভিনেতাদের সাথে কাজ করেছেন। চাপ ছিল কোনো?

উনাদের মতো বড় শিল্পীদের সাথে কাজ করার সময় তো একটা চাপ থাকেই। কিন্তু আপনার শেখার ইচ্ছে থাকলে তাদের কাজ থেকে শিখতেও পারবেন। আমি সেটাই করেছি। বিষয়টিকে চাপ হিসেবে না নিয়ে শেখার চেষ্টা করেছি এবং এতে সফলও হয়েছি।

শুটিং করেছিলেন ভোলায়। সাধারণত প্রত্যন্ত এলাকার শুটিংয়ে নানা ধরনের বাধার সম্মুখীন হতে হয়। এ ধরনের কোন অভিজ্ঞতা হয়েছিল?

বাজে অভিজ্ঞতা হয়নি। তবে প্রথমদিকে যখন লোকেশন রেকি করতে যাওয়া হয়, তখন বেশ কিছু কারণে শুটিং করতে রাজি ছিলেন না পরিচালক। কিন্তু জাজের কর্ণধার আব্দুল আজিজ স্যার বললেন, শুটিং ভোলাতে হবে। যাই হোক, ওখানকার মানুষ বেশ সিনেমা পাগল। শুটিংয়ের কথা শোনার পর দূর-দূরান্ত থেকে মানুষজন আসে শুটিং দেখতে। ফলে এমন অবস্থা হয়, টানা তিনদিন ভিড়ের কারণে সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শুটিং না করে বসে থাকতে হয়েছিল। কিন্তু মানুষের সহয়তায় আমরা শুটিং করেছিলাম।
এছাড়া স্থানীয় হল মালিকরা আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। অবসর, অভিরুচিসহ তিনটি হলে গিয়েছিলাম। শুটিংয়ের পাশাপাশি প্রচারণার কাজটাও করে এসেছি।

ছবির গল্পে দুটি ভিন্ন ধর্মালম্বী নর-নারীর মধ্যকার প্রেম এবং তা নিয়ে সমাজের বিরুদ্ধে সংগ্রাম দেখানো হয়। বাস্তবে আপনার জীবনে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে কী করতেন?

বেশ কঠিন প্রশ্ন, উত্তরটা ভেবে-চিন্তে হবে। ধর্ম সম্পর্কে আমাদের জানার পরিধি অনেক কম, পরিধিটা বাড়াতে হবে। এ কম জ্ঞান ও ধর্মান্ধতায় সমাজে নানান সমস্যা তৈরি হয়। কথাবার্তা, চাল-চলনে, আচার-আচরণে, কী করতে হবে, কী করতে হবে না— ধর্ম নানাভাবে আমাদের নিয়ন্ত্রণ করে। ধর্ম সম্পর্কে যত ভালোভাবে জানব তত বেশি সমস্যার জট খুলবে, জীবন সহজ-সরল হবে।

আপনার এতদিন করে আসা ছবিগুলোর থেকে ‘মেয়েটি এখন কোথায় যাবে’ একটু ভিন্ন ধরনের। চ্যালেঞ্জিং হওয়ারই কথা। সাহস করলেন কীভাবে?

এ ছবিতে কাস্টিং হওয়ার পেছনের গল্পটা বলি। আব্দুল্লাহ জহির বাবু ভাই একদিন ফোন করে বলেন, আপনি অভিনয় করতে শিখেছেন? উত্তরে আমি বললাম, আপনারা যা স্ক্রিপ্টে লিখেন তা-ই অনুসরণ করার চেষ্টা করি। উনি বললেন, তার মানে প্রাতিষ্ঠানিক কোনো শিক্ষা নেই অভিনয়ে! বলেই ফোনটা কেটে দিলেন। পরদিন আমাকে জাজের অফিসে ডাকলেন, ছবিটির কথা বললেন। আসলে তারা আমার অন্য সিনেমাগুলো নিয়ে স্টাডি করেছিলেন। তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞ আমাকে ‘ফর্মুলা হিরো’ থেকে বের করে এনে এ ধরনের একটা সিনেমা করানোর জন্য।

নাদের চৌধুরী স্যারের কাছে শিখেছি কীভাবে লাউড ভয়েসে না গিয়ে শুধু আন্ডার টোনেও ভালো অভিনয় করা যায়। চোখে চোখে রেখে অভিনয় করাটাও আমি শিখেতে পেরেছি। সব মিলিয়ে আমি খুশি।

জাজের সাথে প্রথম কাজ করলেন।
তাদের সাথে কাজ করা সৌভাগ্যের। প্রত্যেকটা কাজের জন্য আলাদা আলাদা লোক রয়েছে। গল্পের নিয়ে ওরা অনেক বেশি ভাবে।

জলির সাথেও প্রথম কাজ করলেন। ‘তার সাথে কাজ করে অনেক ভাল লেগেছে’ টাইপের উত্তর না দিয়ে আলাদা কিছু বলুন।

ওর ভেতরেও যা, বাইরেও তা। শুরুতে আমাদের মধ্যে ওইভাবে ভালো কমিনিউকেশন না থাকলেও আস্তে আস্তে ভালো বোঝাপড়া তৈরি হয়। যার ফলে আমরা দুজন বেশ ভালোভাবেই গল্পের মধ্যে ঢুকে যেতে পেরেছিলাম। যার ফলাফল দর্শক পর্দায় পাবেন।

এ ছবিটিতে বেশ কয়েকটি গান রয়েছে। একটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন ফজলুর রহমান বাবু। ভাল লাগার কোনো গান?

শ্রদ্ধেয় গাজী মাজহারুল আনোয়ার, মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান ও কবির বকুল স্যারের লেখা গান রয়েছে এতে। সবকটি গানেই আপনার বাংলার সংস্কৃতির একটা টান পাবেন, একটা মেসেজ আছে, আত্মার টান খুঁজে পাবেন। যাই হোক, রোমান্টিক গান ‘জোছনা দেখি’ বেশ ভালো লেগেছে।

‘কী দারুণ দেখতে’ হিসেবে নিলে আপনার ক্যারিয়ারের বয়স তিন বছর। কিন্তু এখনো স্ট্রাগলিং পিরিয়ডে আছেন।

আমি তা বলব না। যতটুকু সময় গিয়েছে ততটুকুতে বলব— ইট জাস্ট স্টার্স্ট। আসলে শাকিব ভাইয়ের পরে আমাদের একটা জেনারেশন গ্যাপ পরে গেছে। আমি তো মাত্র শুরু করলাম। সব মিলিয়ে খুব হ্যাপি।

আপনার হাতে থাকা অন্য ছবির খবর কী? 

‘চল পালাই’ বৃহস্পতিবার আবার থেকে শুরু হচ্ছে। এ লটেই বাকি শুটিং শেষ হওয়ার কথা। ‘ফিফটি ফিফটি লাভ’-এর শুটিং শেষ হয়েছে। ‘ক্রাইম রোড’ মার্চের শেষে মুক্তি পাচ্ছে।



Designed by Copyright © 2014
Powered by Blogger.