সর্বশেষ সংবাদ

আশনা হাবিব ভাবনা ( Vabna) ও তার জীবনের প্রথম পাঁচটি অভিজ্ঞতা

অনেক ‘প্রথম’কে সঙ্গী করেই জীবন কাটাতে হয়। নিতে হয় অভিজ্ঞতা। তারকাদের জীবনেও এমন প্রথম অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাঁদের এমন প্রথম পাঁচটি অভিজ্ঞতা নিয়েই ‘প্রথম পাঁচ’। আজ এই বিভাগে থাকছেন অভিনয়শিল্পী আশনা হাবিব ভাবনা (Vabna) 

আশনা হাবিব ভাবনা ( Vabna) ও তার জীবনের প্রথম পাঁচটি অভিজ্ঞতা

প্রথম ক্যামেরার সামনে

দুই বছর বয়স থেকেই ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর অভ্যাস আমার। তবে সেই সময়কার কথা এখন কিছুই মনে নেই। বুঝতে শেখার পর নাটকের শুটিংয়ে প্রথম ক্যামেরার সমানে দাঁড়িয়েছিলাম আমি ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময়। নির্মাতা অরণ্য আনোয়ার আমাদের নূরুল হুদা নাটকের জন্য নাচ করতে পারে এমন মেয়ে খুঁজছিলেন। আমি তো অল্প বয়স থেকেই নাচ শিখতাম। মাকে রাজি করিয়ে আমাকে দিয়ে চরিত্রটি করিয়েছিলেন পরিচালক। শুটিং হয়েছিল পুবাইলে। নাটকটিতে মাত্র একটি দৃশ্যে অভিনয় করেছিলাম আমি। সেটা ওই নাচের। ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা ছিল, তাই খুব একটা ভয় লাগেনি। তবে দৃশ্যটি করতে তিন-চার বার করে শট দিতে হয়েছিল, এটা মনে আছে।

প্রথম পারিশ্রমিক

নাচের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পুরস্কার হিসেবে এক হাজার টাকা পেয়েছিলাম। একটু খুলে বলি, শিল্পকলা একাডেমিতে নাচের একটা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে আমিও অংশ নিয়েছিলাম। প্রথমবার অংশ নিয়েই পাস করেছিলাম। আর পুরস্কার হিসেবে ওই টাকাটা পেয়েছিলাম। সেটি ছিল আমার কাজের প্রথম পারিশ্রমিক। টাকাটা পেয়ে মায়ের হাতে তুলে দিয়েছিলাম। পরে শুনেছি, সেই টাকা দিয়ে মা আমার জন্য অনেকগুলো নাচের গয়না কিনে দিয়েছিলেন।

প্রথম অটোগ্রাফ

তখন আমি নবম শ্রেণির ছাত্রী। একটা মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের শুভেচ্ছাদূত। আমার ছবি দিয়ে সারা দেশে বিলবোর্ড তৈরি করা হয়েছিল। ওই সময় একদিন মায়ের সঙ্গে দেশের বাইরে যাচ্ছি। বিমানবন্দরের প্রসাধনকক্ষে ঢুকেছি, এ সময় আমার চেয়ে বয়সে বড় একটি মেয়ে এসে বলল, ‘আপু আপনি তো ওই বিলবোর্ডের মাথায় হাত দেওয়া মেয়েটি!’ শুনে আমি ভয় পেয়ে দৌড়ে মায়ের কাছে গিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে মাকে ওই ঘটনা বললাম। মা বললেন, ‘তোকে বিলবোর্ডে দেখে চিনে ফেলেছে।’ বসে আছি, কিছুক্ষণ পর ওই মেয়েটি কাছে এসে আমার অটোগ্রাফ চাইলেন। আমি তো অবাক! কিসের অটোগ্রাফ দেব। কীভাবে লিখতে হয়, তা-ও জানি না। আমি দিতে চাইলাম না। মা বললেন, ‘কিছু লিখতে হবে না, খালি নিজের নামটি লিখে দাও।’ আমি তা-ই করেছিলাম।

প্রথম বইপড়ার অভিজ্ঞতা

একদম ছোটবেলা থেকে কমিকস পড়তাম। সেই সময় সিনড্রেলা, তুষার কন্যাসহ একাধিক কমিকসের বই পড়েছি। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় প্রথম নাচের ওপর লেখা বিরজু মহারাজ ও বুলবুল আহমেদের বই পড়েছি। এরপর নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় শহিদুল জহিরের কাফকা পড়েছিলাম। পরে আবুল বাসারের মরু স্বর্গ, শাহাদুজ্জামানের ক্রাচের কর্নেলসহএকাধিক বই পড়েছি। এখন পড়ছি একসময়ের বলিউডের পর্দাকাঁপানো নায়িকা রেখার ওপর ভারতের সাংবাদিক ইয়াসির ওসমানের লেখা একটি বই।

প্রথম বিদেশ ভ্রমণ

২০০৫ সালের কথা। সেই সময় একটি নাচের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে প্রথম বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ হয়েছিল। ভারতের হলুদিয়া নামক স্থানে হলুদিয়া উৎসবে অংশ নিয়েছিলাম। প্রতিবছর সেখানে নাচের হলুদিয়া উত্সব হয়। যাহোক, প্রথম বিদেশ ভ্রমণ, প্রথম বিমানে ওঠা, সব মিলে উৎসবে অংশ নেওয়ার আগে আগে রোমাঞ্চকর অনুভূতি হয়েছিল। যদিও তখন মা সঙ্গে ছিল। পাঁচ-ছয় দিন ছিলাম মনে হয়। মনে আছে, যেদিন যাই, সেদিন বিমানবন্দরে আমার পরিবারের সবাই আমাকে বিদায় দিতে গিয়েছিলেন। পরে দেখি, বাবার চোখে জল। কিন্তু আমার তেমন কিছুই মনে হয়নি। কারণ বিমানে ওঠার সুযোগ পাচ্ছি এটাই বড় আনন্দ। হলুদিয়ায় গিয়ে দারুণ অভিজ্ঞতাও হয়েছিল। আমি ওখানে ভরতনাট্যম পরিবেশন করেছিলাম। ওই মঞ্চেই আমি হেমা মালিনীকে ভরতনাট্যম করতে দেখেছি।



Designed by Copyright © 2014
Powered by Blogger.