সর্বশেষ সংবাদ

Mautusi Bishwas এর অন্তরালের প্রহরগুলো

ছোটপর্দার জনপ্রিয় মুখ হলেও বিজ্ঞাপন, চলচ্চিত্র ও উপস্থাপনায় সমান সাবলীল অভিনেত্রী Mautusi Bishwas। বর্তমানে অভিনয়ের এক দশক পার করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আদর্শস্থানীয় তিনি। নাচের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যাত্রা শুরু করলেও অভিনেত্রী হিসেবেই তার খ্যাতি। চিত্রনাট্য, চরিত্র নির্বাচন ও ভালো অভিনয়ের কারণেই তার আজকের এ অবস্থান। 

Mautusi Bishwas এর অন্তরালের প্রহরগুলো

বর্তমানে বাংলাভিশনে প্রচার হচ্ছে মৌটুসী অভিনীত জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক 'চলিতেছে সার্কাস'। নির্মাতা মাসুদ সেজানের এ নাটকটি শুধু টেলিভিশন নয়, ইউটিউবে দারুণ জনপ্রিয়। এরই মধ্যে ২০০ পর্ব পেরিয়ে যাওয়া এ নাটকের শেষ দৃশ্যধারণ হবে ১৯ মার্চ। নাটক শেষ হলেও সহশিল্পীদের খুব মিস করবেন বলে জানান তিনি। কাজ করতে সবাই যেন এক পরিবারের সদস্য হয়ে গেছেন তারা। এ পরিবারের দীর্ঘ পথচলায় আনন্দময় অনেক প্রহর স্মৃতিতে অক্ষয় হয়ে থাকবে মৌটুসীর। 

এ মুহূর্তে বিভিন্ন টেলিভিশনে প্রচার হচ্ছে তার অভিনীত একাধিক ধারাবাহিক নাটক। এজাজ মুন্নার 'আস্থা', এসএ হক অলিকের 'আয়নাঘর' ও আলভী আহমেদের 'করপোরেট' উল্লেখযোগ্য। এর মধ্যে 'আস্থা' নাটকে মৌটুসীকে দেখা যাবে কিছুদিন পর। এতে ডিভোর্সি নারীর চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। তালাকপ্রাপ্ত হলেও স্বামীর পরবর্তী বিয়ে বন্ধ করতে তিনি বদ্ধপরিকর। এজন্য উঠেপড়ে লাগেন তিনি। কমেডিনির্ভর হলেও এ নাটকের চরিত্রগুলো বর্ণনা করবে আধুনিক মানুষের সুখ-দুঃখ ও না পাওয়ার গল্পগুলো। 

এরই মধ্যে মৌটুসী শেষ করেছেন মুক্তিযুদ্ধের গল্প অবলম্বনে নির্মিত অরূপ চৌধুরীর 'দধিচি যুগে যুগে' নাটকে। এতে সুরমা নামে এক রাজাকার সর্দারের মেয়ের চরিত্রে দেখা যাবে তাকে। রাজাকার কন্যা হলেও তিনি ভালোবাসেন এক গেরিলা মুক্তিযোদ্ধাকে। এ নাটকে তার সহশিল্পী হিসেবে আছেন তৌকীর আহমেদ ও রওনক হাসান। 

নাটকের পাশাপাশি নতুন বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেও আলোচনায় এসেছেন মৌটুসী। আবুল খায়েরের নির্দেশনায় 'খাতা'র বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। তিনটি ছোটগল্প নিয়ে নির্মিত বিজ্ঞাপনটি এরই মধ্যে দর্শকের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে। এ বছর নির্মাতা কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের গুঁড়ো দুধের বিজ্ঞাপনেও মডেল হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। পাশাপাশি উপস্থাপনা করছেন চার চ্যানেলে প্রচারিত 'দুরন্ত কৈশোর' অনুষ্ঠানে।

গত বছর মেহের আফরোজ শাওনের 'কৃষ্ণপক্ষ' ছবিতে অভিনয় করলেও এ বছর চলচ্চিত্র নিয়ে কোনো ব্যস্ততা নেই তার। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'চলচ্চিত্রে কাজ করা নির্ভর করে নির্মাতার ওপর। কোনো নির্মাতা তার পছন্দের চরিত্রে আমাকে কাস্ট করতে চাইলে সমস্যা নেই; কিন্তু আমাদের এখানে বর্তমানে বেশিরভাগ ছবির কাস্টিং নির্ভর করে প্রযোজকের পছন্দ অনুসারে। যেহেতু আমি নির্মাতাদের অভিনেত্রী, তাই প্রযোজকদের সঙ্গে তেমন পরিচয় নেই। এ কারণে চলচ্চিত্রে কাজ করার সুযোগও কম।'

নাটকের বর্তমান অবস্থা নিয়ে মৌটুসী বলেন, 'আমাদের এখানে ভালো নির্মাতা যারা আছেন, তারা ভালো বাজেট পাচ্ছেন না, যে কারণে তাড়াহুড়া করে কাজ শেষ করতে হয়। কিন্তু নাটক শুধু অভিনয়শিল্পীদের বিষয় নয়, প্রতি ক্ষেত্রে সঠিক মানুষকে নির্বাচন না করলে কাজের মান ধরে রাখা সম্ভব নয়। ক্যামেরাম্যান, সম্পাদনা, চিত্রনাট্যসহ নাটকের আবহসঙ্গীত নিয়েও ভাবতে হবে। দরকার হলে চিত্রনাট্যে বদল আনতে হবে। বাজেটের মধ্যে স্বল্প সময়ে সম্ভব এমন কিছু চরিত্র নিয়ে গল্প হলেও নির্মাতার চাপ কম থাকে। এ ধরনের গল্প শিল্পীরা যেমন গ্রহণ করতে পারবেন, দর্শকও পছন্দ করবেন বলে আমার বিশ্বাস।'

মৌটুসী জানান, অভিনয়ে অভিজ্ঞতা যত বাড়ছে, দায়িত্বও সেরকম বাড়ছে। শুটিং সেটেও এখন অনেকের অভিভাবক তারা। তবে নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের নিয়ে আশাবাদী মৌটুসী। সঠিক দিকনির্দেশনার মাধ্যমে তাদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এখন সবার দায়িত্ব বলে মনে করেন তিনি। পরিবার ও কর্মক্ষেত্রে এ দায়ভার অভিনেত্রী মৌটুসীকে আরও বেশি সমৃদ্ধ করুক- এ কামনা সবার। 



Designed by Copyright © 2014
Powered by Blogger.