সর্বশেষ সংবাদ

তৃষিত চাতক Ritika Sen

প্রচলিত একটা কথা আছে, মেয়েরা নাকি দেখতে দেখতেই বড় হয়ে যায়। কথাটা একেবারে মিথ্যা নয়। অন্তত Ritika Sen  কে দেখে অনায়াসে এ কথা বলা যায়। কোন ঋতি্বকা সেন? কলকাতার অভিনেত্রী ঋতি্বকার কথাই বলছি। ২০১২ সালে যাকে '১০০% লাভ' ও 'চ্যালেঞ্জ-টু' ছবিতে দেখেছেন কিশোরী চরিত্রে, সে এখন পুরোদস্তুর চিত্রনায়িকা। কিশোরী থেকে নায়িকা হতে তার লেগেছে মাত্র দু'বছর। তাহলে ভেবে দেখুন, কত অল্প সময়েই ঋতি্বকা পেয়ে গেলেন চিত্রনায়িকার খেতাব! 

তৃষিত চাতক Ritika Sen

রাজ চক্রবর্তীর 'বরবাদ' ছবির মাধ্যমে নায়িকা হিসেবে অভিষেক হয় তার। বনি সেনগুপ্তের বিপরীতে অভিনয় করে দর্শকের নজর কাড়তেও খুব একটা সময় লাগেনি তার। শুধু দর্শক বললে কম বলা হবে, গুণী নির্মাতাদের নজর পড়েছে তার দিকে। যার সুবাদে অপর্ণা সেনের 'আরশি নগর' ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ হয় তার। ২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবিতে তার বিপরীতে ছিলেন টালিউড সুপারস্টার দেব। অবশ্য এত কথা বলার কোনো প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। কারণ ঋতি্বকা সেন এখন বাংলা ছবির দর্শকের পরিচিত একটি নাম। তার কাজের খোঁজখবরও রাখেন অনেকে। এর চেয়ে অবাক করা খবর হলো, কলকাতার চেয়ে এ দেশে তার ভক্ত সংখ্যা বেশি! এটা আমাদের নয়, ঋতি্বকা নিজেই স্বীকার করেছেন এটা। জানিয়েছেন, তার ফেসবুকের ভক্ত-অনুসারীর ৬৫ শতাংশ নাকি বাংলাদেশের। এটা দেখেই তার ধারণা হয়েছে, কলকাতার চেয়েও তিনি বাংলাদেশে বেশি জনপ্রিয়। ঋত্তিকার এ ধারণা সত্য কি মিথ্যা তা জানা যাবে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত 'গাদ্দার' ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পর। এ মুহূর্তে চলছে এই ছবির দৃশ্যধারণ। এটি যৌথভাবে পরিচালনা করছেন বাংলাদেশের কামাল মোহাম্মদ কিবরিয়া লিপু ও কলকাতার নেহাল দত্ত। এ ছবির সুবাদে বাংলাদেশ সফরে এসেছেন ঋতি্বকা। অভিনয় করছেন বাংলাদেশের শ্রাবণ খানের বিপরীতে। শুটিংয়ের অবসরেই জানিয়েছেন, 'গাদ্দার' নিয়ে তার প্রত্যাশার কথা। বললেন, 'গাদ্দারের কাহিনী এ সময়ের অন্যান্য ছবি থেকে অনেকটা ভিন্ন। আর এতে নিজেকে দুই ভাবে তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছি। একই ছবিতে দুটি চরিত্রে অভিনয় চ্যালেঞ্জিং হলেও, আমি পিছিয়ে আসিনি। আমার মনে হয়েছে, এটাই সুযোগ, নিজেকে ভাঙার, ভিন্নরূপে উপস্থাপনের। তার চেয়ে বড় কথা, কলকাতার পাশাপাশি এটি বাংলাদেশেরও ছবি। একই সঙ্গে দুই বাংলার দর্শকের মুখোমুখি হতে পারব এ ছবির মাধ্যমে। তাই ভালো কিছু করে দেখাতে পারলে, সেটা হবে ক্যারিয়ারের স্মরণীয় একটি কাজ। আপাতত সে চেষ্টাই করছি।' ঋতি্বকার এ কথায় বোঝা যায়, ভালো কিছু করে দেখানোর বিষয়ে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অভিনয় ক্যারিয়ারে ভিত দৃঢ় করতে চান বলেই ভেবেচিন্তে কাজ করেন। সে কারণেই কাজের সংখ্যা অন্যদের তুলনায় কিছুটা কম? এর জবাবে ঋতি্বকা বলেন, 'সংখ্যা বাড়িয়ে কোনো লাভ নেই, যদি সেই কাজ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য না হয়। বড় বড় অনেক শিল্পীকে দেখেছি, বছর বা দু'বছরে একটি-দুটি ছবিতে অভিনয় করেন। এতে তারা সুযোগ পান, নিজেকে নতুন করে উপস্থাপনের। চরিত্রের মাঝে নিজেকে পুরোপুরি সঁপে দিতে পারেন বলেই তাদের অভিনয় দর্শকের মনে দাগ কাটে। আমিও চাই, দর্শক অভিনয়ের কারণেই আমাকে মনে রাখুক, কয়টা ছবিতে অভিনয় করেছি, তার সংখ্যা দিয়ে পরিচিতি চাই না।' ঋতি্বকার এমন কথা শুনে মানতেই হয়, পরিণত শিল্পী হওয়ার যেভাবে পথচলা দরকার, ঠিক সেভাবেই এক পা, দু'পা করে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এখন আর চাইলেও তার মাঝে সেই কিশোরীর ছায়া খুঁজে পাওয়া যাবে না। ক'দিন আগেও যার নাম ছিল শিশুশিল্পীর তালিকায়। পশ্চিমবঙ্গের মালদাহর সেনবাড়িতে জন্ম নেওয়া শিশু আজ অনেক বড় হয়েছে। আগামীতে আরও বড় হবে, তার অভিনয় দিয়ে।



Designed by Copyright © 2014
Powered by Blogger.