সর্বশেষ সংবাদ

Celebrities হালখাতা

পুরো বছরের হিসাব-নিকাশে ভারী হয়ে গেছে হালখাতাটা। নতুন বছরের শুরুর দিন থেকে নতুন খাতায় নতুন হিসাব কষা শুরু হবে। বণিকদের কাছে পয়লা বৈশাখের এই হালখাতার রীতিটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই রীতিতে একটু ভিন্নতা এনে কয়েকজন অভিনেত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হলো নতুন-পুরোনোর হিসাব-নিকাশের। তাঁরা বললেন পুরোনো কোনো ‘আবর্জনা’ দূর করতে চান জীবন থেকে, বললেন নতুনকে কীভাবে গ্রহণ করতে চান।

Celebrities হালখাতা

মাহিয়া মাহি
ব্যক্তিজীবনের নানা ঘটনার কারণে মাহিয়া মাহি ছিলেন বছরজুড়ে আলোচনায়। বছরের শুরুতে তাঁকে দেখা গিয়েছিল কৃষ্ণপক্ষ ছবিতে। এরপর বিয়ে এবং এর পরের বিরতি—এসব নিয়েই খবরের শিরোনাম হয়েছেন তিনি। তবে মাঝে বেশ কয়েকটি নতুন ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। তাই নতুন বছরের নতুন হালখাতায় তিনি শুধু কাজের হিসাবই রাখতে চান। আর এ বছর বদলে ফেলতে চান পুরোনো মাহিকে। তাঁর ভাষায় ‘উড়াধুরা’ মাহির বদলে তিনি এ বছর হতে চান সুবোধ বালিকা। নিজের ব্যক্তিত্বে আনতে চান আমূল পরিবর্তন।

বৈশাখী চেক-ইন: দুই বছর ধরে দেশের বাইরে কাটছে মাহিয়া মাহির পয়লা বৈশাখ। বিদেশে শুটিংয়ের ফাঁকে কোনো না কোনোভাবে ভাত জোগাড় করতে পারলেও ইলিশ মাছের বদলে ফোনে ভাজা ইলিশের ছবি দেখেই কাটিয়েছেন বিশেষ দিনটি। তবে এবার পরিকল্পনা অন্য রকম। মাহির খুব ইচ্ছা, বৈশাখের প্রথম দিন তিনি কাটাবেন সিলেটে শ্বশুরবাড়িতে। কিন্তু এরপরও যদি কোনো কারণে কালকের দিনটিতেও কাজ পড়ে যায়, তাহলে পুরো পরিবারকে মাহি নাকি শুটিং সেটেই উঠিয়ে নিয়ে আসতে চান।

জান্নাতুল পিয়া
ভোগ সাময়িকীর প্রচ্ছদে এসে মডেল ও অভিনেত্রী জান্নাতুল পিয়া এই বাংলা বিদায়ী বছরে আলোচনায় এসেছিলেন। তাঁকে দেখা গেছে সিনেমাতেও। তাই অভিনয়, মডেলিং, উপস্থাপনা—সব কাজ নিয়ে পিয়ার নতুন পরিকল্পনাগুলো জানতে চাওয়া। তিনি বললেন, সবকিছু চলবে আগের মতোই। তবে সাবধানী হবেন সিনেমার গল্প বাছাইয়ে। মডেলিং আর অনুষ্ঠান উপস্থাপনা নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই পিয়ার মনে। শুধু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেই এখনো মন ভরাতে পারেননি তিনি।

বৈশাখী চেক-ইন: কাজের কারণে বছরের বেশ খানিকটা সময় তো সেজেগুজেই কাটাতে হয় জান্নাতুল পিয়াকে। তাই যে দিনগুলোয় তাঁকে সাজতে হয় না, সে দিনগুলোই এই মডেলের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পায়। পয়লা বৈশাখ পিয়ার কাছে তেমনই একটি দিন। প্রতিবছরই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দেশি খাবার খেয়ে শুরু হয় বছরের প্রথম দিন। এ বছরও তা-ই হবে। সকালটি বাড়িতে কাটিয়ে দুপুরে যাবেন খুবই কাছের এক বন্ধুর বাড়িতে। মোট কথা, পিয়ার হিসাবে বছরের প্রথম দিনটি খুবই আপন মানুষদের সঙ্গে কাটাবেন তিনি, যাতে পুরো বছরটাই এমন সুন্দর কাটে।


নুসরাত ফারিয়া
গত বছর চলচ্চিত্রে অভিনয় নিয়েই সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত ছিলেন অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া। কাজের চাপে পরিবারকে তাই সেভাবে সময় দিতে পারেননি। এই বছর থেকে পরিবারের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটাতে চান ফারিয়া। অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত থাকায় পড়াশোনায়ও কিছুটা ভাটা পড়েছে। এবার এই দিকেও সময় দেবেন বলে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছেন ফারিয়া।

জানালেন, শুধু নববর্ষেই নয়, প্রতি মাসেই হিসাব-নিকাশ করে চলার চেষ্টা করেন তিনি। তবে খাওয়াদাওয়ার ক্ষেত্রে আরও একটু সংযমী হতে হবে তাঁকে, এটি ফারিয়ার গেল বছরের উপলব্ধি। শরীর ফিট রাখতে এই বছর শুধু স্বাস্থ্যসম্মত খাবারই খাবেন। আর ফারিয়া চান নতুন বছরে তাঁকে নিয়ে সবার সব ভুল ধারণা কেটে যাক। তিনি যে কোনো নির্দিষ্ট প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের কাজই শুধু করেন না, এটাই জানাতে চান সবাইকে। এখন থেকে সব ব্যানারে কাজ করবেন।

বৈশাখী চেন-ইন: বৈশাখে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করেন নুসরাত ফারিয়া। তবে এবার পয়লা বৈশাখেই মুক্তি পাচ্ছে ফারিয়া অভিনীত ছবি ধ্যাততিরিকি। সকালে হয়তো হলে গিয়ে নিজের ছবি দেখবেন। সেখানে গিয়ে দর্শকদের প্রতিক্রিয়াও সরাসরি দেখার সুযোগ পাবেন তিনি। আর দুপুর বা বিকেলের দিকে বাড়ি ফিরেই লেগে যাবেন মেহমানদারিতে। অতিথি আপ্যায়ন করতে যে ভীষণ পছন্দ করেন এই তারকা।

অপর্ণা ঘোষ
ভুবন মাঝি ছবির রেশ এখনো আচ্ছন্ন করে রেখেছে অপর্ণা ঘোষকে। সেই সঙ্গে ঈদের নাটকের কাজের চাপ তো আছেই। তবে এরপরও নববর্ষ উদ্যাপনে কোনো কমতি রাখতে চান না অভিনেত্রী অপর্ণা ঘোষ। হিসাব-নিকাশ বড্ড জটিল মনে হলেও অপর্ণা তাঁর নতুন বছরের হালখাতাটা রাখতে চান গোছালো। তিনি বললেন, ‘কাজের বেলায় কিংবা ব্যক্তিজীবনেও আমি খুব বেশি হিসাব করে চলি না। তবে নতুন বছর থেকে জীবনকে একটু গুছিয়ে আনতে চাই। অগোছালোভাবে আর কাজ করতে চাই না। নিজেকে ভাঙতে চাই। এরপর সব গুছিয়ে নিয়ে নতুন করে গড়তে চাই।’

বৈশাখী চেক-ইন: অপর্ণার প্রতিটি পয়লা বৈশাখই কাটে চট্টগ্রামে মা-বাবার সঙ্গে। পয়লা বৈশাখের আগের দিন থেকে তাঁর বাড়িতে যেসব আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়, সেগুলো নাকি খুব উপভোগ করেন তিনি। তাঁর মা চৈত্রের শেষ দিন সন্ধ্যায় বিভিন্ন বনজ পাতা এনে তা জ্বেলে সেই ধোঁয়া ছোঁয়ান অপর্ণা ও তাঁর বোনের গায়ে। এতে সব রোগ-শোক নাকি কেটে যায়। তা ছাড়া বৈশাখের প্রথম সকালেও নিজ বাড়িতে নানা আনুষ্ঠানিকতা থাকে। এ জন্য প্রতিবছর যত কাজই থাকুক না কেন, তা থেকে ছুটি নিয়ে অপর্ণা চট্টগ্রাম চলে যান। এবারও এর ব্যতিক্রম হবে না।



Designed by Copyright © 2014
Powered by Blogger.