সর্বশেষ সংবাদ

Nancy-এর এক চিলতে রোদ্দুর

'আজকাল একটু জোর দিয়েই বলি ভালো আছি। এই যে পহেলা বৈশাখ গেল, কোনো স্টেজ শোতে অংশ নেওয়া হলো না। গত আট বছরের কোনো বৈশাখে এমন ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু আহত হইনি, বরং অবাক হয়েছি এমন অভিজ্ঞতায়। তার চেয়ে বড় কথা, এবারের বৈশাখ আমার জন্য ছিল সবচেয়ে আনন্দময়। সারাদিন বাসায় স্বামী আর দুই সন্তান রোদেলা ও নায়লাকে নিয়ে মেতেছিলাম নববর্ষের উল্লাসে।' Nancy-এর এ কথায় বোঝা গেল, বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনটা তার হাসি-আনন্দেই কেটেছে।

Nancy-এর এক চিলতে রোদ্দুর

 শুধু ন্যান্সি নয়, তার ভক্তদের জন্য ১৪২৪ সনের আগমনী বার্তা ছিল মহাআনন্দের। কেননা বাংলা নতুন বছরের নানা আয়োজনের সঙ্গে তারা উপহার পেয়েছেন ন্যান্সির আনকোরা নতুন অ্যালবাম। 'শুনতে চাই তোমায়' নামের এই অ্যালবামে ন্যান্সি গেয়েছেন ভিন্ন ধাঁচের তিনটি গান। জাহিদ আকবরের লেখা আর ইমন চৌধুরীর সুর-সঙ্গীতের প্রতিটি গানই শ্রুতিমধুর। এটা আমাদের নয়, ন্যান্সির ভক্তদের কথা। অবশ্য ন্যান্সির গায়কী আর অ্যালবাম নিয়ে আলাদা করে বলার কিছু নেই। কারণ প্রতিটি অ্যালবামেই ন্যান্সি ভিন্ন আঙ্গিকে নিজেকে উপস্থাপন করেন। 

তাই ন্যান্সির কাছে জানতে চাইলাম, অ্যালবাম তৈরি করার আগে কীভাবে প্রস্তুতি নেন, যার জন্য প্রতিটি অ্যালবামই ভিন্ন ধাঁচের হয়ে ওঠে? এ প্রশ্নের উত্তরে ন্যান্সি বলেন, 'একক অ্যালবামে একাধিক গীতিকার-সুরকারের গানের পরিবর্তে এক বা দুজনের সঙ্গে কাজ করতে পছন্দ করি। আমি জানি, একেকজন গীতিকার বা সুরকারের কাজ একেক ধরনের। তারপরও চাই, একজন গীতিকারই নিজেকে ভেঙে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের গীতিকথা লিখুক। সুর ও সঙ্গীতায়োজনে চাই সঙ্গীত পরিচালক তার সৃষ্টির নানা রকম নমুনা তুলে ধরুক। ক্যারিয়ারের শুরুতে অবশ্য এত স্বাধীনতা পাইনি। অ্যালবাম প্রকাশকরাই নির্ধারণ করতেন কার কথা ও সুরে গাইব। এখন সে স্বাধীনতা পাই। তাই গীতিকার ও সুরকারের সঙ্গে নিজের ভাবনা ভাগাভাগি করে গান তৈরি করি।' প্লেব্যাকে নিশ্চয় এমন সুযোগ থাকে না? 'না। প্লেব্যাকে পুরোপুরি নির্ভর করতে হয় সঙ্গীত পরিচালকের ওপর। এ জন্য প্লেব্যাকের সময় চেষ্টা করি, গায়কীর মধ্য দিয়ে যতটা সম্ভব গানকে ভিন্ন আঙ্গিকে তুলে ধরতে।'

ন্যান্সির এ কথায় স্পষ্ট, নিজস্বতা ধরে রেখেও কীভাবে প্রতিটি গান সময়োপযোগী করে তুলেছেন। এরপরও একটা প্রশ্ন থেকেই যায়। তাহলো ন্যান্সি কীভাবে বুঝতে পারেন কোন গানের কথা, সুর, সঙ্গীত ও গায়কী কেমন হলে শ্রোতাদের মনে দাগ কাটবে? সে কথা জানতে চাইলে ন্যান্সি বলেন, 'সত্যি বলতে কী, এটা আগেভাগে কখনোই জানা যায় না। শুধু অনুমান করে নিতে হয়, গান কেমন হলে শ্রোতার ভালো লাগবে। আগে খুব একটা অনুমান করতে না পারলেও এখন কিছুটা পারি। যেদিন থেকে আমার বড় মেয়ে রোদেলা আমাকে গাইড করছে, সেদিন থেকে শ্রোতার ভালোলাগা, মন্দলাগার বিষয়টা স্পষ্ট হয়ে গেছে। সদ্য কৈশোরে পা দেওয়া রোদেলাকে আমি বলি, প্রথম সারির শ্রোতা। সব ধরনের গান শোনে ও। আমার কোনো কোনো গান শুনে ও বলে, 'আম্মু এই গানটার এ জায়গাটায় ভালো শোনায়, এই লাইন কেমন যেন মনে হয়।' এভাবেই পরামর্শ দেয়। আবার কখনও কখনও নিজেও গুনগুন করে আমার গান গায়। ভালোলাগা থেকেই গায়। তা দেখে অনুমান করি, ওর মতো আরও অনেকে হয়তো গুনগুন করে গানটা গাইবে।' ন্যান্সির কথায় জানা গেল, তার সবচেয়ে বড় সমালোচক আছে নিজ বাসায়। তাই নতুন আয়োজন কেমন হচ্ছে, তা আগে থেকেই আঁচ করতে পারেন। এবার তাই জানতে চাইলাম, পরবর্তী গানগুলো কেমন হচ্ছে, তার কোনো আভাস ঘরে বসেই পেয়েছেন কি? এর উত্তরে ন্যান্সি যা শোনালেন, তাতে একটু অবাক হতে হলো। তিনি বললেন, 'এখন তো কিছুই করছি না, না অ্যালবামের গান, না প্লেব্যাক। স্টেজ শোর আমন্ত্রণও আসেনি এর মধ্যে। বাসাতেই সময় কাটছে।' যে শিল্পী তার অনিন্দ কণ্ঠে শ্রোতাদের হৃদয় হরণ করেছেন, যার নতুন গানের জন্য শ্রোতারা প্রতীক্ষার প্রহর গুনেন, সেই শিল্পী চুপচাপ ঘরে বসে আছেন, এও কি বিশ্বাস করা যায়? এর চেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, গান যার নিত্যদিনের সহচর, সেই শিল্পী গান গাইতে না পেরেও বলছেন, 'ভালো আছেন, সময়টা বেশ ভালো কাটছে।' এই কথার অর্থ কী? এর জবাবে ন্যান্সি বলেন, 'যে কোনো উৎসবের পর সাময়িক ভাটা আসে। এটাও তেমনই একটা 

সময়। প্লেব্যাক, অ্যালবাম, স্টেজ শো, টিভি আয়োজন- কোনো কিছু নিয়েই ব্যস্ততা নেই। তাই ঘরে বসে পরিবারের সঙ্গে আনন্দে সময় কাটছে।' এই কথার অর্থ কী? ন্যান্সি বলেন, 'যে কোনো উৎসবের পর সাময়িক ভাটা আসে। এটাও তেমনই একটা সময়। প্লেব্যাক, অ্যালবাম, স্টেজ শো, টিভি আয়োজন - কোনো কিছু নিয়েই ব্যস্ততা নেই। তাই ঘরে বসে পরিবারের সঙ্গে আনন্দে সময় কাটছে। শুধু পরিবারকে সময় দিতে পারছি বলে নয়, যাপিত জীবনের অনেক সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পেরেছি বলেই এই ভালো থাকা। ২০১২ সালে মাকে হারানো, রাজনীতি নিয়ে সমালোচনার শিকার, মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়া - এমন অনেক ঝড়ের মুখে পড়ে বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছিলাম। এত কিছুর পরও সঙ্গীত ক্যারিয়ার ধরে রাখা আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল। মনে হয়েছিল, আর কখনও গান গাওয়া হবে না, শিল্পী জীবনের ইতি। কিন্তু আমার স্বামী পাশে থাকায়, নতুন করে শুরুর সাহস দেওয়ায় আবার নিজ পায়ে দাঁড়াতে পেরেছি। ভাগ্যবান শ্রোতারাও এ সময় আমার পাশে ছিলেন। তাই শিল্পী জীবনের আর ইতি ঘটেনি। তাই তো এখন জোর গলায় বলি, ভালো আছি।' 



No comments:

Post a Comment

Designed by Copyright © 2014
Powered by Blogger.