সর্বশেষ সংবাদ

Kazi Nazrul Islam-এর আঁচল ভরা ফুল

একরূপে তিনি বিদ্রোহী, সাম্যবাদী, রণাঙ্গনের বীর সেনানী। অন্যরূপে Kazi Nazrul Islam সৌন্দর্যের কারিগর। কবিতা, গল্প, উপন্যাস ছাড়াও অজস্র গানের স্রষ্টা তিনি। সাহিত্যের এমন কোনো শাখা নেই যেখানে কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার অসামান্য মেধা প্রয়োগ করেননি। নিজের জীবদ্দশায় অন্যান্য স্মৃৃষ্টিকর্মের মতো গল্পও লিখেছেন প্রচুর। তার গল্প নিয়ে অনেক নাটক তৈরি হয়েছে। দেশের সমসাময়িক অনেক শিল্পীই তার রচিত বিভিন্ন কালজয়ী চরিত্রে অভিনয় করেছেন। 'রিক্তের বেদন', 'মৃত্যুক্ষুধা, 'কুহেলী', 'বাঁধনহারা', 'মেহের নিগার' ইত্যাদি এর মধ্যে জনপ্রিয়। 
Kazi Nazrul Islam-এর আঁচল ভরা ফুল

নজরুলের ছোটগল্পের সংখ্যা খুব বেশি নয়। সব মিলে ১৮টি। তার একেকটি গল্পে নায়িকা যেন একেক রকম রহস্যময়। তারা দুঃখ সইতে পারে, কিন্তু অপমান নয়। আর সে কারণে নজরুলের নায়িকা চরিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে হাজারও বাঁক পরিবর্তনের বিষয়। সে কারণে নজরুলের একটি চরিত্র পর্দায় বাস্তবসম্মতভাবে ফুটিয়ে তোলা কম কষ্টসাধ্যও নয়। মঞ্চ, টেলিভিশন আর বড় পর্দায় বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নায়িকা কাজী নজরুল ইসলামের নারী চরিত্রগুলো ফুটিয়ে তুলেছেন। তাদের মধ্যে অগ্রগণ্য হলেন- ফেরদৌসী মজুমদার, সুবর্ণা মুস্তাফা, চম্পা, আফসানা মিমি, শমী কায়সার, অপি করিম, বিপাশা হায়াত, নাজনীন চুমকি, তানিয়া আহমেদ, বিন্দু, ভাবনা, অপর্ণা ঘোষ, বাঁধন, বন্যা মির্জা, নুনা আফরোজসহ অনেকে। 
 
এ সময়ের তরুণ অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে নজরুলের গল্প নিয়ে নির্মিত নাটকের বেশ কয়েকটিতে নায়িকা চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাদিয়া। তিনি বলেন, 'আমি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প নিয়ে নির্মিত নাটকের চেয়ে বেশি কাজ করেছি নজরুলের নাটকে। তার 'অগি্নগিরি', 'মৃত্যুক্ষুধা', 'বাঁধনহারা', 'মেহের নিগার', 'মেজবউ' নাটকের নায়িকা হয়ে অনেক কিছু জানতে পেরেছি। বিশেষ করে নজরুলের সেই সময়কে। এ জন্য নজরুল সাহিত্যের প্রতি দারুণ আগ্রহ জন্মেছে আমার।' 

কয়েক বছর আগের নজরুলজয়ন্তীর জন্য কবির 'বাঁধনহারা' গল্প নিয়ে নির্মিত নাটকে অভিনয় করেছিলেন অপি করিম। তিনি বলেন, 'কাজী নজরুল ইসলামের গল্প নিয়ে নির্মিত নাটকে কাজ করা যত কঠিন, ঠিক ততটাই আনন্দের। নজরুলের গল্পের নায়িকা হতে গেলে সেই সময়ের দিকে নজর রাখা খুব প্রয়োজন। সেভাবে চুল বাঁধা, শাড়ির আঁচলে সেভাবে জড়িয়ে রাখা ইত্যাদি বিষয়।' কবির 'বাঁধনহারা'র ছায়া অবলম্বনে নির্মিত 'কুহু' নামের একটি টেলিছবিতে অভিনয় করেন মডেল অভিনেত্রী সাদিয়া ইসলাম মৌ। তিনি বলেন, 'আমি নজরুলসঙ্গীত এবং নজরুল সাহিত্যের দারুণ ভক্ত। কাজী নজরুলের গল্পের অভিনয় আমি দারুণ উপভোগ করেছি। সাহিত্য নিয়ে কাজ করতে আমার বেশ ভালো লাগে।'

২০১০ সালে প্রথম নজরুলের গল্পের নায়িকা হয়েছিলেন ফারহানা মিলি। তিনি বলেন, 'জাতীয় কবির নায়িকা চরিত্রে কাজের আনন্দটাই আলাদা। বিশেষ করে তার কবিতা থেকে নির্মিত নাটকে। আর সাহিত্য নিয়ে কাজ করা বরাবরই অনেক কঠিন। কারণ একজন পাঠক যখন একটি গল্প পড়েন, তখন তিনি নিজের মতো চরিত্রটি সাজানোর চেষ্টা করেন। সেই ভাবনার সঙ্গে মিল রেখে চরিত্র রূপদান করা অনেক কঠিন।' 

জাতীয় পুরস্কার জয়ী অভিনেতী জাকিয়া বারি মমর অভিনয়ের শুরুটাই হয়েছিল নজরুলের গল্প নিয়ে নির্মিত নাটকের মধ্য দিয়ে। তিনি জানান, 'যখন শুনলাম কাজী নজরুল ইসলামের 'মেহের নিগার' গল্প নিয়ে নাটক পরিচালনা করবেন মিনহাজুর রহমান আর আমি সেখানে নাম ভূমিকায় অভিনয় করব, তখন বেশ ভড়কে গিয়েছিলাম। একে তো গল্পটা পড়া ছিল না, তার ওপর জীবনের প্রথম অভিনয়। অভিনয়ের প্রস্তাব পাওয়ার পর অনেকবার মনোযোগ দিয়ে পড়ার চেষ্টা করলাম গল্পটি। কিন্তু কোনো লাভ হলো না। ফলে প্রথম দিন ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে গিয়ে খুব স্নায়ুচাপে ছিলাম। যদিও সেদিন আমার সহশিল্পী জাহিদ হাসান অনেক সহযোগিতা করেছেন। অভিনেত্রী সুমাইয়া শিমুর নজরুলের গল্প নিয়ে নির্মিত অনেকগুলো নাটকে অভিনয় করেছেন। তিনি বলেন, 'সাহিত্য নিয়ে কাজের লোভ সামলাতে পারি না কখনও। বলতে পারেন মুখিয়ে থাকি। এসব চরিত্রে অভিনয় করতে গেলে অন্য আট-দশটা নাটকের চেয়ে অনেক বেশি সময় ব্যয় করতে হয়। অন্য নাটকগুলোয় নিজের মতো চরিত্র সাজিয়ে নিই। কিন্তু সাহিত্য নিয়ে নির্মিত নাটকে অভিনয়ের সময় বর্ণনা অনুযায়ী ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করি। বিশেষ করে রূপসজ্জা আর পোশাক নিয়ে বেশ সতর্ক থাকি। বাংলায় একটা প্রবাদ আছে, 'আগে দর্শনদারী পরে গুণ বিচারী'। ঠিক কেমন অভিনয় করলাম সেটা পরে ভাবি, আগে আমার সাজসজ্জা কেমন হবে তা নিয়েই ভাবনায় মশগুল থাকি। 'বাঁধনহারা', 'রিক্তের বেদন', 'শিউলিমালা' নাটকগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে মনে পড়ে 'রিক্তের বেদন' নাটকের কথা। এতে এক আরবের বেদুইন রমণীর চরিত্রে অভিনয় করেছি। নাটকটির বেশিরভাগ দৃশ্যেই আমাকে কালো বোরখা পরতে হয়েছে। একে তো কালো পোশাক, অন্যদিকে চৈত্র মাসের কাঠফাটা রোদ্দুর। এত কষ্ট করেছি একমাত্র সাহিত্যপ্রীতির জন্য। বর্তমান সময়ের অভিনেত্রী অপর্ণা ঘোষ শৈশব থেকেই বিদ্রোহী কবির লেখার ভীষণ ভক্ত। তিনি নজরুলের 'চিঠি' কবিতা নিয়ে নির্মিত নাটকে অভিনয় করেছেন। অপর্ণা বলেন, 'আমার প্রিয় কবিদের মধ্যে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম অন্যতম। তার যে কোনো ধরনের রচনা আমি মুগ্ধ হয়ে পাঠ করি। আমি প্রথম তার কবিতা নিয়ে নির্মিত নাটকটিতে অভিনয় করার আগে 'চিঠি' কবিতা একাধিকবার পড়েছি। শৈশব প্রেমের অসাধারণ প্রেমকাহিনী নিয়ে এর প্রেক্ষাপট। এক সময় আমি কবিতার বীনু চরিত্রে নিজেকে ভাবতাম। বীনু চরিত্রে অভিনয় করে নিজেকে ধন্য মনে করছি।' অভিনেত্রী স্বাগতাকেও বেশ কয়েকটি নজরুলের নাটকে দেখা গেছে। তিনি বলেন, 'সাহিত্য নিয়ে নির্মিত নাটকে কাজের আনন্দ একেবারেই আলাদা। বিশেষ করে তা যদি হয় নজরুল ও রবীন্দ্র সাহিত্য নিয়ে। আমি সবসময় এই কাজগুলো খুব উপভোগ করি।'



Designed by Copyright © 2014
Powered by Blogger.