সর্বশেষ সংবাদ

Mitali Mukherjee-এর এই দুনিয়া সেই দুনিয়া

Mitali Mukherjee ছিলেন আমন্ত্রিত অতিথি। এসেছিলেন মুম্বাই থেকে, যান্ত্রিক উড়াল পাখির ডানায় ভর করে। ছিলেন সঙ্গীত প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা 'ক্ষুদে গানরাজ'-এর অতিথি বিচারক।

Mitali Mukherjee-এর এই দুনিয়া সেই দুনিয়া

প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালের বিচারক হওয়ার জন্যই তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তাই এর চূড়ান্ত পর্বের আসরে যখন তাকে দেখা গেল মুগ্ধ হয়ে ক্ষুদে শিল্পীদের পরিবেশনা শুনছেন- সেই দৃশ্যে অবাক হননি কেউই। কেননা, সঙ্গীত যার শিরায় শোণিত ধারায় বহমান, তিনিই তো বিভোর হয়ে সঙ্গীত সুধা পান করবেন। নন্দিত শিল্পী মিতালী মুখার্জির জন্যও এ কথা প্রযোজ্য। তবু তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল এবারের বাংলাদেশ সফর আর এই প্রতিযোগিতা নিয়ে। প্রথম প্রশ্নের উত্তরেই চমকে দিয়েছিলেন তিনি। মনে করিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি ভিনদেশি কেউ নন। হাসিমুখেই উল্টো প্রশ্ন ছুড়েছিলেন, 'নিজের দেশে কেউ সফরে আসে? আমি তো আমার দেশেই এসেছি। এ কথা ঠিক যে, এখন ঠিকানা বদলে গেছে। জন্মভিটা ছেড়ে অবস্থান করছি অন্য এক মানচিত্রে। তাই বলে আমি আমার জন্মভূমি কিংবা বাঙালি পরিচয়কে ভুলে যেতে পারি না। পারিওনি। তাই সুযোগ পেলেই ছুটে আসি জন্মভূমির মাটিতে।' মিতালী মুখার্জির এ কথা শুনে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ কম-বেশি সবাই জানেন তার শিল্পীজীবনের আদ্যোপান্ত। তবু নতুন প্রজন্মের যারা জানেন না, তাদের জন্যই বলি, মিতালী মুখার্জি সেই শিল্পীদের একজন, যিনি তার অনিন্দ্য গায়কী দিয়ে জয় করেছেন অগণিত ভক্ত-শ্রোতার মন। তার গাওয়া 'এই দুনিয়া এখন তো আর সেই দুনিয়া নাই' গানটি শোনেননি, এমন শ্রোতা খুব কমই আছেন। ১৯৮২ সালে মুক্তি পাওয়া 'দুই পয়সার আলতা' ছবির এই গানে কণ্ঠ দিয়েছিলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। শুধু আলাউদ্দিন আলীর সুরারোপিত এই গানই নয়, তার শিল্পী জীবনের ঝাঁপিতে আছে আরও অসংখ্য জনপ্রিয় গান। অথচ আশির দশকে পৈতৃক নিবাস ময়মনসিংহ থেকে যখন তিনি ঢাকায় এসেছিলেন, তখনও কেউ কল্পনা করতে পারেননি, নবীন এই শিল্পী কতটা চমক দেখাবেন। সেটাই করে দেখিয়েছিলেন তিনি। মায়াবী কণ্ঠের জাদুতে মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছিলেন সঙ্গীত পূজারিদের। এই শিল্পীকে চিনতে-জানতে অনেকের কৌতূহল বেড়েই চলছিল, ঠিক সে সময়ে দেশ ত্যাগ করেন তিনি। অবশ্য ভারতে গিয়েছিলেন সঙ্গীতের টানেই। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্তির বছরেই অর্থাৎ ১৯৮২ সালে ভারত সরকারের বৃত্তি নিয়ে বারোদায় গিয়েছিলেন শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে পড়াশোনার জন্য। কিন্তু এই যাওয়া যে অন্য ইতিহাস রচনা করবে, তা জানা ছিল না অনেকের। কিন্তু সবাইকে বিস্মিত করে, সেখানেই নিবাস গড়েন তিনি। কেননা সেখানেই তার ঘনিষ্ঠতা গড়ে উঠেছিল ভারতের খ্যাতিমান গজলশিল্পী ভূপিন্দর সিংয়ের সঙ্গে। পরিচয়ের এক বছরের মাথায় অর্থাৎ ১৯৮৩ সালে বিয়ে করেন তারা। এরপর ভারতেই মিতালী স্থায়ী হন। তাই বলে তিনি এদেশের শ্রোতাদের নিরাশ করেছেন, এমনও নয়। কেননা, বাংলাদেশেই প্রকাশিত হয়েছে তার সর্বাধিক অ্যালবাম। খ্যাতিমান শিল্পীদের সঙ্গে গেয়েছেন বেশ কিছু দ্বৈত গান। সেসব গান এখনও শ্রোতাদের মন রাঙিয়ে যাচ্ছে সমানতালে। এই হলো মিতালী মুখার্জির শিল্পীজীবনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। এখন বরং পুরনো প্রসঙ্গ ছেড়ে এ সময়ের কথা বলি। দেশের শিল্পী এবার দেশে এসেছিলেন ক্ষুদে শিল্পীদের সঙ্গীত প্রতিযোগিতার বিচারক হয়ে। যে কথা আগেও বলেছি। এ কারণে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতার কথা। মিতালী মুখার্জি বলেন, 'এবারই প্রথম কোনো রিয়েলিটি শোর বিচারক হয়ে ঢাকায় এসেছি। তাই এবারের আসাটা আমার কাছে বেশ আনন্দের, গর্বের। 'ক্ষুদে গানরাজ' অনেক বড় একটি প্লাটফর্ম, যেখানে ছোট ছোট ছেলেমেয়ে নিজেদের সঙ্গীত প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ পাবে। নিজে যখন ছোট ছিলাম তখন এ ধরনের বড় কোনো প্ল্যাটফর্ম ছিল না। তাই এখনকার ক্ষুদে শিল্পীদের ভাগ্যবান বলেই মানছি। এই আয়োজনে বিচারক হওয়ার স্মৃতিও কখনও ভুলে যাওয়ার নয়।'

ক্ষুদে গানরাজের কথা তো হলো, এবার জানতে চাই, সঙ্গীতময় দিনগুলো কীভাবে কাটছে? তিনি বলেন, 'গানের চর্চা থেমে নেই। গান ছাড়া নিজেকে ভাবতেও পারিনি। অ্যালবাম বা প্লেব্যাকে ব্যস্ত নই ঠিকই, তাই বলে সঙ্গীতের সঙ্গে হৃদয়তা ফুরিয়ে গেছে, এমন বলা যাবে না।' তার এই কথায় স্পষ্ট, গানের চর্চা থেমে নেই। শুধু বাংলা নয়; গুজরাটি, পাঞ্জাবি, তামিলসহ নানা ভাষায় গান করেন তিনি। সে কারণেই তার কাছে জানতে চাওয়া হলো, বাংলা গানের সুধা কি অন্য কোনো ভাষার গানে খুঁজে পান? 'সঙ্গীতের জন্য আলাদা কোনো ভাষার প্রয়োজন হয় না। ভাষা না বুঝলেও শ্রোতা এর স্বাদ থেকে বঞ্চিত হন না। নানা ভাষায় গান করে এ সত্যই জেনেছি। তার পরও বলব, বাঙালি বলে বাংলা ভাষা বা গানের প্রতি আলাদা আকর্ষণ আছে-এ সত্যটাও অস্বীকার করার উপায় নেই। তাই বাংলা গানের চর্চাও থেমে নেই।' চর্চা যেহেতু থেমে নেই তাহলে এদেশের শ্রোতারা নিশ্চয় নতুন কোনো গান উপহার পাবে? এর উত্তরে তিনি বলেন, 'গাইছি, আমৃত্যু গাইব- এটাই যখন পণ, তখন এদেশের শ্রোতাদের জন্য কেন নয়। সুময়-সুযোগ হলেই গাইব।'



Designed by Copyright © 2014
Powered by Blogger.