সর্বশেষ সংবাদ

বিক্রমের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃতভাবে Sonika Singh Chauhan-কে মৃত্যু ঘটানোর ধারা যুক্ত

নিছক দুর্ঘটনা নয়। রাতের শহরে বাড়ি ফেরার পথে মডেল Sonika Singh Chauhan-এর মৃত্যুর পিছনে গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে থাকা বন্ধু, অভিনেতা বিক্রম চট্টোপাধ্যায়ের বেসামাল ও বেপরোয়া আচরণই দায়ী বলে আদালতে জানাল পুলিশ। বিক্রমের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃতভাবে মৃত্যু ঘটানোর ধারা যুক্ত করতে মঙ্গলবার আদালতে আবেদন করা হয়েছে।

বিক্রমের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃতভাবে Sonika Singh Chauhan-কে মৃত্যু ঘটানোর ধারা যুক্ত

আলিপুরে অতিরিক্ত মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসে পুলিশের ওই আবেদন গৃহীত হয়েছে। বিক্রম অবশ্য এখন জামিনে। কিন্তু পুলিশি তদন্তে গাড়ি চালানোর সময়ে তার দায়িত্বজ্ঞানহীন কাণ্ডকারখানা নিয়ে তথ্য প্রমাণ উঠে এসেছে বলে লালবাজার থানার পুলিশ জানিয়েছেন। তাদের দাবি, নতুন ধারা যুক্ত করার ফলে বিক্রমকে গ্রেফতার করতে বাধা থাকল না। আলিপুর আদালতের বিচারকের কাছে এ দিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত মৃত্যু ঘটানো, অর্থাৎ ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারায় আবেদন করেছে পুলিশ। এর ফলে তার সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন সাজাও হতে পারে।সনিকার পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে, তারা শুধু চান, প্রকৃত সত্যটা সামনে আসুক। এটা সে দিকেই একটি পদক্ষেপ বলে তারা মনে করেন।

২৯ এপ্রিল ভোরে লেক মলের সামনে দুর্ঘটনায় পড়ে বিক্রমের গাড়ি। চালকের আসনে থাকা বিক্রম বেঁচে গেলেও পাশের সিটে বসা সনিকা মারা যান। পুলিশ বিক্রমের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগে মামলা করে। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন বিক্রম। টিভি ও বড়পর্দার ওই অভিনেতা সহজেই জামিন পেয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। নড়েচড়ে বসেন তদন্তকারীরা। দু’দফায় বিক্রমকে থানায় ডেকে জেরা করে পুলিশ। দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বিক্রম-সনিকার বন্ধুদের। অভিযুক্তের পরিচিতদের বয়ান এবং পানশালা থেকে বিভিন্ন নথি সংগ্রহের পরে পুলিশ নিশ্চিত হয়ে যায়, বিক্রম মত্ত অবস্থাতেই গাড়ি চালাচ্ছিলেন।

বিক্রম ও সনিকার চার বন্ধুর গোপন জবানবন্দির রিপোর্টও এ দিন আদালতকে দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনায় দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া গাড়িটির ফরেনসিক রিপোর্টও জমা পড়েছে। পরে সরকারি আইনজীবী সৌরীন ঘোষাল বলেন, ‘বিক্রম এবং সনিকার চার বন্ধু আদালতের কাছে গোপন জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের দাবি, বিক্রম দুর্ঘটনার আগে দু’টি পানশালায় দফায় দফায় মদ্যপান করেছিলেন। আদালতকে এ সব জানিয়েই নতুন ধারা যোগ করা হয়েছে।’

আনন্দবাজার পত্রিকা সূত্রে জানা যায়, ফরেনসিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ওই রাতে বিক্রমের গাড়ির গতি এক বারও ৯০-এর নীচে নামেনি। এক সময়ে তা ১১৫ পর্যন্ত উঠেছিল। দুর্ঘটনার ঠিক সাড়ে চার সেকেন্ড আগে ঘণ্টায় ১০৫ কিলোমিটার গতিবেগ ছিল বলে রিপোর্টে প্রকাশ। দু’সেকেন্ড আগে ছিল ঘণ্টায় ৯৩ কিলোমিটার। দুর্ঘটনাটি ঘটার দেড় সেকেন্ড আগেও ব্রেক কষেননি বিক্রম। যেহেতু সামনের দিকে ধাক্কা লাগেনি, তাই গাড়ির এয়ারব্যাগও খোলেনি। বিক্রমের সিটবেল্ট বাঁধা থাকলেও সনিকার ছিল না বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রাসবিহারী অ্যাভিনিউয়ের যেখানে দুর্ঘটনাটি ঘটে, সেখানে একটি বাঁক রয়েছে। মনে করা হচ্ছে, বিক্রম বেসামাল থাকায় গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। তবে তার রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট এখনও আসেনি বলে পুলিশের দাবি। বিক্রম মদ্যপান করেছিলেন কি না, রক্ত পরীক্ষায় তা আরও স্পষ্ট হবে বলে দাবি পুলিশের।



Designed by Copyright © 2014
Powered by Blogger.