সর্বশেষ সংবাদ

Tokyo চলচ্চিত্র উৎসবে রোহিঙ্গাদের নিয়ে ছবি


আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মিয়ানমারে দমনের শিকার হওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে রাজনীতির খেলা চলছে। অনেকটাই যেন দৃষ্টির আড়ালে চাপা পড়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশটির হতভাগ্য সেই সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর দুর্দশার কথা।


মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে তাঁর নিজ দেশের সংখ্যালঘু সেই জনগোষ্ঠীকে নিয়ে বানোয়াট প্রচারণায় লিপ্ত থাকার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দোষারোপ করেছেন। দেশটির নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী নেত্রী তো এর আগেই খারিজ করে দিয়েছেন রোহিঙ্গাদের দমন-পীড়নের শিকার হওয়ার অভিযোগ। রোহিঙ্গাদের ভাগ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেন-দরবার চলতে থাকার মুখে বাংলাদেশে ক্রমেই স্ফীত হচ্ছে নির্যাতনের হাত থেকে পালিয়ে আসা মানুষের সংখ্যা।

ঠিক সে রকম একসময়ে রোহিঙ্গাদের দুর্দশার বিষয়টির দিকে আলোকপাত করে তৈরি একটি ফিচার ছবি জায়গা করে নিয়েছে Tokyo আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতিযোগিতা বিভাগে। জাপানের চলচ্চিত্র অনুরাগীদের জন্য রোহিঙ্গা সমস্যার দিকে সহানুভূতির দৃষ্টিতে তাকানোর সুযোগ তৈরি করে দিতে যাচ্ছে ছবিটি।

অক্টোবর মাসের ২৫ তারিখ থেকে শুরু হবে ৩০তম আন্তর্জাতিক Tokyo চলচ্চিত্র উৎসব। উৎসবের আয়োজন নিয়ে ২৬ সেপ্টেম্বর Tokyoতে অনুষ্ঠিত হয় এক সংবাদ সম্মেলন। তাতে উৎসবের বিভিন্ন দিকের প্রস্তুতি তুলে ধরা হয়। Tokyo আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হচ্ছে এর প্রতিযোগিতা বিভাগ। উৎসবে অংশ নেওয়ার জন্য জমা পড়া সব ছবির মধ্যে থেকে ১৫টি ছবিকে শ্রেষ্ঠ ছবির প্রতিযোগিতা বিভাগের জন্য বেছে নেওয়া হয়। ফলে সেই ১৫টি ছবিকে গণ্য করা যেতে পারে উৎসবে অংশ নেওয়া ছবিগুলোর মধ্যে সেরা ছবি হিসেবে।

এবারের Tokyo আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের জন্য বিশ্বের ৮৮টি দেশ ও ভূখণ্ড থেকে ১ হাজার ৫৩৮টি ছবি জমা পড়েছে। আয়োজকেরা এর মধ্য থেকে মূল প্রতিযোগিতা বিভাগের জন্য ১৫টি ছবির বাইরে এশিয়ান ফিউচার বিভাগের জন্য ১০টি এবং জাপানি ছবির বিভাগের জন্য আরও ১০টি ছবি বেছে নিয়েছেন।

এবারের সেরা ছবির প্রতিযোগিতা বিভাগে ফ্রান্স ও জাপানের দুটি করে ছবি স্থান পেয়েছে। এ ছাড়া ইরান, মালয়েশিয়া, তুরস্ক, চীন, জার্মানি, ইতালি, ফিনল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ, বুলগেরিয়া, জর্জিয়া ও কাজাখস্তানের একটি করে ছবি স্থান পাচ্ছে। চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতিযোগিতা বিভাগের পরিচালক ইয়োশি ইয়াতাবে সংবাদ সম্মেলনে এবারের বাছাই ১৫টি ছবির পরিচিতি তুলে ধরেন। প্রতিযোগিতা বিভাগের জন্য ছায়াছবির শৈল্পিক উৎকর্ষের পাশাপাশি ছবির মধ্য দিয়ে পারিপার্শ্বিক প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে মানুষের চালানো সংগ্রামের সফল প্রতিফলনের দিকে আলোকপাত করা হয় বলে তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন।

প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে মানুষের সেই সংগ্রামের মধ্যে একদিকে যেমন উঠে এসেছে জার্মানিতে পুরুষ প্রাধান্যের সমাজে নেতৃত্বের আসন পেতে রোজা লুক্সেমবুর্গ থেকে শুরু করে একালের নারীদের চালিয়ে যাওয়া প্রচেষ্টার কথা; অন্যদিকে স্থান পেয়েছে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বেঁচে থাকার সংগ্রামের কথা। ১৫টি নির্বাচিত ছবির মধ্যে মালয়েশিয়ার পরিচালক এডমন্ড ইয়োর উই দ্য ডেড ছবিটি তৈরি হয়েছে দেশ থেকে পালিয়ে গিয়ে বিদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দুর্দশার ওপর ভিত্তি করে।

৩ নভেম্বর বিজয়ী ছবি এবং অন্যান্য বিভাগে পুরস্কৃতদের নাম ঘোষণা করা হবে। মালয়েশিয়ার ছবি পুরস্কার পাবে কি না, উৎসব চলাকালে বিচারকমণ্ডলী তা যাচাই করবেন। তবে চূড়ান্ত পর্যায়ে পুরস্কার না পেলেও প্রতিযোগিতার মূল বিভাগে জায়গা করে নেওয়া হচ্ছে বড় এক সাফল্য এবং সেই সাফল্যের মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দুর্দশার বিষয়টি নিশ্চিতভাবেই আরও কিছুটা প্রচার পাবে।
Designed by Copyright © 2014
Powered by Blogger.